ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ তদন্ত ও বিচারে সহায়ক হবে : প্রধান বিচারপতি

ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ তদন্ত ও বিচারে সহায়ক হবে : প্রধান বিচারপতি

বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রবর্তনের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠতে পারলে তা বৃহৎ পরিসরে তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকদের কাজে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি সোমবার বিকালে ঢাকার একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় আদালতে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণের ব্যবহার সম্পর্কিত কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ আইনি ব্যবস্থার মূল বিষয়। বিচার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনায় সাক্ষ্য আইন মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক শতকেরও বেশি পুরনো সেই আইন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উৎকর্ষের এই যুগে একুশ শকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১২ সালের মানবপাচার প্রতিরোধ আইন বিশেষ কিছু আইনে ট্রাইব্যুনালের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে অডিও-ভিজুয়্যাল ইনস্ট্র–মেন্টের রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মূল বিষয় হলো তদন্ত। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় তদন্ত ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় তদন্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। তদন্ত ব্যর্থ হলে বিচারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, বিচারকাজে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের আদালত মহলে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। কারণ এটি কৌসুলি ও বিচারকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াবে। এছাড়া ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহার আরো দ্রুত অপরাধের বিচার করতে সহায়তা করবে ও মামলাজট কমাবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণের বর্ধিত ব্যবহারের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে এটি বিচার প্রশাসনের দক্ষতা ও সততা বাড়াতে বড় ভ‚মিকা রাখতে পারে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আবাসিক আইনি উপদেষ্টা মারিয়া লার্নার। তিন দিনের এই কর্মশালা পরিচালনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দু’জন ফেডারেল বিচারক ও তিন জন ফেডারেল কৌসুলি, যুক্তরাজ্যের একজন ফৌজদারি বিচারবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন অধ্যাপক। বিশেষ পরিস্থিতিতে বর্তমানে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুমোদিত এমন কিছু ট্রাইব্যুনাল থেকে আমন্ত্রিতরা এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। এগুলো হলো সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল, সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও পরিকল্পনাধীন মানবপাচারবিরোধী ট্রাইব্যুনাল।

Leave a Reply