কর্মস্থলে অনুপস্থিতির শাস্তি শিথিল করল সরকার

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির শাস্তি শিথিল করল সরকার

সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি সংক্রান্ত নতুন বিধিমালায় শাস্তির পরিমাণ কমানো হয়েছে। সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮ প্রণয়নের কারণে ১৯৮২ সালের ‘গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ’ বাতিল হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ শীর্ষক গত বৃহস্পতিবার গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

১৯৮২ সালের বাতিল হয়ে যাওয়া অধ্যাদেশের ‘অপরাধের পুনরাবৃত্তির জন্য দণ্ড’ শীর্ষক ৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গণকর্মচারী এক মাসের মধ্যে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে উপস্থিতি, বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ এবং বিলম্বে অফিসে উপস্থিতির মতো ব্যত্যয় যদি একাধিকবার করেন তাহলে তাকে উল্লিখিত ব্যত্যয়ের শাস্তির বাইরে আরও অতিরিক্ত সাত দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা যাবে। কিন্তু নতুন প্রণীত বিধিমালার ৬ ধারা অনুযায়ী, উল্লিখিত ব্যত্যয়গুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিনের মূল বেতনের পরিমাণ টাকা বেতন থেকে কাটা যাবে।

অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিতি, বিলম্বে উপস্থিতি এবং অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে একাধিকবার শাস্তি পেয়ে থাকলে সেই শাস্তির সঙ্গে যোগ করে মোট সর্বোচ্চ সাত দিনের মূল বেতন কাটা যাবে। যা পূর্বের অধ্যাদেশে আগের শাস্তির সঙ্গে নতুন আরো সাতদিনের মূল বেতন কাটার নিয়ম ছিল। এতে করে শাস্তি আগের চেয়ে কমেছে।

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত বিধিমালায় উল্লিখিত বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ রাতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সচিব ফোন ধরেননি। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অফিসার শাস্তি শিথিলের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আগের অধ্যাদেশটি সামরিক শাসনের আমলে প্রণীত হয়েছিল। নতুন সামরিক শাসন চালু হওয়ায় তখন সবকিছুতেই কড়াকড়ি ছিল। এখন গণতান্ত্রিক সরকার। তাই এ বিষয়টা নমনীয় করা হয়েছে।

পুরনো অধ্যাদেশে ১০টি ধারা ছিল। নতুন অধ্যাদেশে ৯টি ধারা করা হয়েছে। তবে, বিধিমালায় প্রায় সব ধারাতেই পৃথক উপধারা থাকায় অধ্যাদেশের চেয়ে কলেবর বাড়ানো হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে অর্থদণ্ডের কথা বলা থাকলেও সেটা কিভাবে আদায় করা হবে তা বলা ছিল না। নতুন বিধিমালার ৮ ধারায় অর্থ আদায়ের বিষটা কঠোরভাবে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মচারীর দণ্ডের অর্থ মাসিক বেতন থেকে আদায় করতে হবে। ৮(২) ধারা অনুযায়ী, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিজের বেতন বিল নিজে উত্তোলনকারী হইলে, তাহাকে বেতন বিল হইতে দণ্ডের অর্থ কর্তন করিবার লিখিত নির্দেশ প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত নির্দেশের কপি সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত কর্মচারী বেতন বিল হইতে দণ্ডের অর্থ কর্তন না করিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস উক্ত অর্থ কর্তনপূর্বক বিল পাশ করিবে।’

এর বাইরে বিধিমালায় মূলত পুরনো অধ্যাদেশের সকল নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে। যেমন, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত থাকলে একদিনের মূল বেতন কাটা যাবে। পূর্বানুমতি ছাড়া ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে জরুরি প্রয়োজনে সহকর্মীকে জানিয়ে অফিস ত্যাগ করলেও অফিস ত্যাগের কারণ, সময়, তারিখ লিখে যেতে হবে।

যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দেরিতে অফিসে উপস্থিতিতে প্রতি দুইদিনের বিলম্বে উপস্থিতির জন্য একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ কাটা যাবে ইত্যাদি। তবে প্রতিটি শাস্তির বিপরীতেই শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মচারী কারণ দর্শানো ও আপিলের সুযোগ পাবেন । উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিয়ে, বেতন কর্তনের আদেশ সংশোধন বা বাতিল রাখতে পারবে। কিন্তু পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানির ক্ষেত্রে সাক্ষ্যের সংক্ষিপ্তসার, প্রাপ্ত তথ্যাদি এবং সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। যা অধ্যাদেশে ছিল না।

Leave a Reply