জাবির অচলাবস্থা নিরসনে কাল বসছে সিন্ডিকেট

জাবির অচলাবস্থা নিরসনে কাল বসছে সিন্ডিকেট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আগামীকাল বুধবার জরুরি সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে হল খোলাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচলের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। তবে এ জরুরি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পূর্বেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্যাম্পাস সচলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জুয়েল রানা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা। উপাচার্যের সাথে সাক্ষাতের পরই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট। ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হবে। ৬ ও ৭ তারিখ থেকে শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারবে। সূত্র: মাননীয় উপাচার্য ম্যাম।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “সিন্ডিকেট সভা হওয়ার আগে আমি আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে পারি না। তবে কেউ কিছু লিখে থাকলে সেটা তার বিষয়।”

ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, “আমরা ওইসব তারিখে হল ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমি ওই স্ট্যাটাস দিয়েছি। তবে আমরা সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের উপরই আস্থা রাখতে চাই।”

জাবি শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এম মাইনুল হুসাইন স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার জন্য নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়াসহ পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম খুব দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, আন্দোলন একটি গণতান্ত্রিক অধিকার কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় গান-বাজনা করা যাবে না। এ ছাড়া একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখা যাবে না। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলনে যেসকল জামাত-শিবির নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মাজেদ সীমান্ত, জহিরুল ইসলাম বাবু, বায়জিদ খান কলিংস, অর্ণব সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফফান হোসেন আপন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো তারেক হাসান, অভিষেক মন্ডল, পঙ্কজ কুমার দাস প্রমুখ।

এদিকে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আবদুস সালাম মিঞা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার লক্ষ্যে আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

আগামীকাল উপাচার্যের অপসারণসহ তিন দাবি বিক্ষোভ মিছিল :

আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় উপাচার্যের অপসারণসহ তিন দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। আজ ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান (তথ্য) প্রকাশ করার কথা ছিল। অনিবার্য কারণবশত আমাদের এই প্রকাশনা কর্মসূচিটি পিছিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিগুলো হলো : সচল ক্যাম্পাসে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে অবিলম্বে আবাসিক হল খুলে দেওয়া, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ সদস্যদের ও হামলায় মদদদাতাদের শাস্তির ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীল পরিবেশের স্বার্থে উপাচার্যকে অপসারণ করা।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এর প্রেক্ষিতে ওই দিন সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Leave a Reply