সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪৮তম জাতীয় দিবস আজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪৮তম জাতীয় দিবস আজ

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্রিটিশদের সীমানা নির্ধারণের মধ্যদিয়ে রক্তপাত স্বাধীনতা লাভ করে।

দিবসটিকে ঘিরে স্থানীয় আরবীদের পাশাপাশি দেশীয় প্রবাসীদের মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রবাসী আর আমিরাতিদের মধ্যে ছিল আনন্দের অভিন্ন আমেজ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্য কোনো অনুষ্ঠান বা দিন নিয়ে এত বেশি মাতামাতি হয় না যতটা হয় জাতীয় দিবস নিয়ে। ইতিমধ্যে জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমিরাতিদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা বলে দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন শাসকগণ আমিরাতি ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছেন।

দিবসটিকে ঘিরে টানা পাঁচদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন মার্কেট, সুপার মার্কেট ও মলগুলোতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রদেশিক শাসকরা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। ইতিমধ্যে আমিরাত জুড়ে সহস্রাধিক কয়েদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুবাই টাওয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোর ঝলকানি চোখে পড়ার মতো। আমিরাতের উঁচু উঁচু বিল্ডিংগুলোর রংবেরঙের সাজ আর আলোর ঝলকানি দেশটির প্রতিটি শহরকে অপূর্ব করে তুলেছে। আমিরাতের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন শহর উপশহরে সড়কগুলো জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আলোকিত ৪৮সহ নানান রকমের আলোক ঝলকানি শোভা বাড়াচ্ছে। এসবে অভিভূত বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভিজিটর ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা।

জাতীয় দিবস উদযাপনের নানা অনুষ্ঠানমালায় স্থানীয় আরবীদের সঙ্গে পাল্লা রেখে হাজার হাজার দেশীয় প্রবাসীরাও স্বতন্ত্রভাবে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে। অনেকে আবার স্থানীয়দের সঙ্গে দিনের নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করবেন।

বাংলাদেশি প্রবাসীরা নানা আয়োজনের মাধ্যমে আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালনের বিভিন্ন কর্মসূচি সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ সম্পন্ন করেছেন। সারাদিন নানা অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দিনটি পালন করবেন। খেলাধুলা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন খুশি তেমন সাজ, বর্ণিল জামা কাপড় পরিধান, রঙ মারামারি, প্রীতিভোজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আমিরাতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ব্যবধানে এক কালের মৎস্য-খেঁজুরের দেশ নামে খ্যাত সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাধীন হলেও দেশটি অনেক এগিয়ে গেছে। মেধা-শ্রম ও সততা দিয়ে বিশ্ব দরবারে দেশটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। দেশটি স্থাপনা, অবকাঠামো ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে।

জাতীয় দিবস উদযাপনে দেশীয় প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। প্রবাসীদের আশা প্রবাস বান্ধব সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আরেকটু আন্তরিক হলে শিগিগরই আমিরাতে বন্ধ ভিসা ও ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ উন্মুক্ত হবে।

Leave a Reply