অপহরণ নয়, দুই সন্তানসহ প্রেমিকের সাথে পালিয়েছিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

অপহরণ নয়, দুই সন্তানসহ প্রেমিকের সাথে পালিয়েছিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে দুই শিশু সন্তানসহ প্রবাসীর স্ত্রীকে এক সিএনজি চালক অপহরণ করেছে এমন খবর রটে গিয়েছিল গত ১১ নভেম্বর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশও নড়েচড়ে বসে। শুরু করে তদন্ত। তবে ঘটনার ৮দিন পর গৃহবধূ নিজেই ফিরে এসে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন। অপহরণ নয় বরং স্বেচ্চায় ফাতেমা আক্তার নিপা (২৪) নামের কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী আরেক প্রবাসী প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে ওই নারী দুই সন্তান নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে ফিরে আসার পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাদের হেফাজতে নেয়। এরপর তাদের জিডিমূলে নগরীর চান্দগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে নিপার পরিবারের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।

কাউন্টার টেররিজম চট্টগ্রামের প্রধান উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, সিএনজি অটোরিকশা করে গত ১১ নভেম্বর আমানবাজার থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় এলে পাঁচ মিনিটের মাথায় সিএনজিচালক চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কুয়েত প্রবাসী বাসিন্দা ফখরুদ্দিন রুবেলের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নিপা (২৪), ছেলে আদনান সাইদ অয়ন ( ৪) ও মেয়ে ফাহমিদা জাহান রিমিকে (২) নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক গন্তব্যস্থানে না গিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এমন অভিযোগ ছিল পরিবারের। তদন্তে নেমে দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি রাস্তার মাথার সব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। অনেক চেষ্টার পর কয়েক ঘণ্টার ফুটেজ থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালককে শনাক্ত করে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

সিএনজি চালকের দেওয়া তথ্য থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয় নিপা অপহরণ হয়নি। বরং অন্য পুরুষের সাথে সে চলে গেছে। আজ চট্টগ্রামে ফিরে এসে নিপা পুলিশকে জানায়, সিএনজি করে দ্রুত নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী বাবু নামে একজন। বাবুর সঙ্গে নিপার গত ৮ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিপার পারিবারিকভাবে বোয়ালখালীতে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে ইমোতে নিয়মিত যোগাযোগ হত। যেদিন নিপা নিখোঁজ হন সেদিনই দুবাই থেকে বাবু চট্টগ্রামে আসেন। যা বাবু তার পরিবারকেও জানাননি। বিমানবন্দর থেকে সোজা দামপাড়া আসেন। সেখান থেকে হান্ডি রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষে সোহাগ পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকার সাভারের বাবুর এক বন্ধুর বাসায় উঠেন এই প্রেমিকযুগল।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মঈনুল ইসলাম বলেন, যেহেতু পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য শুরু হয়, সেজন্য আমরা জিডির তদন্তভার নিই। অটোরিকশাচালকের বিষয়ে তদন্ত করে দেখা যায়, তিনি আসলে নিরীহ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছি তিনি অপহৃত হননি। সাবেক প্রেমিকের সাথে তিনি ঢাকায় পালিয়ে গেছেন। এরপর আমরা ওই নারীর বন্ধুকে ধরতে তৎপরতা শুরু করি। এক পর্যায়ে দুই সন্তানসহ ওই নারী মঙ্গলবার ফিরে আসেন চট্টগ্রামে।

এ প্রসঙ্গে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফাতেমা আক্তার নিপার পরিবারের জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। কেননা এই ঘটনায় অভিযোগ নিলেও কোনো মামলা হয়নি।

Leave a Reply