পাঁচ দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

পাঁচ দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সমঝোতা চুক্তিতে আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৫টি দেশে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অপর চার দেশ হলো- ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডান। কক্সবাজারের রামু উপজেলার পশ্চিম সমুদ্রপাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া খাতুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট জামান আক্তার বুলবুল এ রিট আবেদন করেছেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

রিট আবেদনে আইন, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব, পুলিশের আইজি, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনে বিবাদীদের ব্যর্থতা, মানব পাচার প্রতিরোধে ২০১২ সালে করা মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আইনি সুরক্ষা ছাড়া মধ্য প্রাচ্যের ৫টি দেশে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে শিশু আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

গতবছর রামুর হাজি পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলায় রামুর ওই শিশুসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে মালয়েশিয়া ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই বছরের ২১ জুন সাগরে ছোট নৌকা দিয়ে জাহাজে তুলে দেয়। কয়েকদিন চলার পর জাহাজ থেকে থাইল্যান্ডের উপকুলীয় পাহাড়ের জঙ্গলে নামিয়ে দেয়। সেখানে দালালরা মারধর করে ও পরে মুক্তিপণ দাবি করে। ওই শিশুসহ আসামিরা ২ লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে আরও ১ লাখ টাকা নেয়। এরপর তাকে মালয়েশিয়া নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়া অভিযানকালে সে আটক হয়। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে আসেন।

মামলায় শিশুটির বয়স দেখানো হয় ২২ বছর। এই মামলায় গত ২৮ অক্টোবর হাইকোর্ট শিশুটিকে জামিন দেন। এই জামিন শুনানিকালে বলা হয়, শিশুটির জন্ম ২০০৭ সালে। তার বয়স এখন ১১ বছর। শিশুটির বয়স যখন ৬ বছর তখন তার পিতা মারা যায়। আর ঘটনা দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের। তখন শিশুটির বয়স ছিল ৭ বছর। এ অবস্থায় শিশুটিকে আদালত জামিন দিয়ে বলেছিলেন, ‘ওতো এখনও মানবই হতে পারেনি। তাহলে ও মানবপাচার করবে কিভাবে?’

এই শিশুটিকে কেন্দ্র করে মধ্য প্রাচ্যে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ চেয়ে রিট করা হলো।

Leave a Reply