ভুয়া চিকিৎসক অনুসন্ধানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলছে

ভুয়া চিকিৎসক অনুসন্ধানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলছে

সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেশের সকল বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া চিকিৎসক অনুসন্ধানের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া নকল-ভেজাল ওষুধ সনাক্তকরণ বিষয়ে অনলাইন ভিত্তিক রিপোর্টিং-এর জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এতথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্পেশাল বিসিএসে ৪ হাজার ৭৫০ নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের চাকুরির প্রধান শর্তই রয়েছে, তাদের যোগদানের পর থেকে দুই বছর উপজেলায় থেকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। তার আগে উচ্চ শিক্ষার জন্য কোথাও যেতে পারবে না।

অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে মুজিবুল হক চুন্নু অভিযোগ করেন বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে দশ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়। কোনো কোনো উপজেলায় ২০-২৪ জন ডাক্তার নিয়োগ পায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেসব জায়গায় ২-৩ জনের বেশি ডাক্তার নেই। জিজ্ঞাসা করলে বলা হয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, ঢাকা মেডিকেল ও জেলা হাসপাতালে সংযুক্ত আছে। এই সংযুক্তি বাতিল করা হবে কি-না এবং ডাক্তার সংকটের এই সমস্যা সমাধান করা হবে না।

জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি যে সমস্যার কথা বলেছেন এই চিত্রটি অনেকাংশে অনেক জায়গাতেই সত্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে কোনো সংযুক্তি এখন দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যপারে সরকারের কড়াকড়ি আছে। আগামীতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস এ যে ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেখানে যোগ দিবেন তাদেরকে সেখানে দুইবছর থাকতে হবে। তারপর তারা উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য অন্য জায়গায় যেতে পারবেন। কিন্তু নিয়োগের পর প্রথম যোগদানকৃত হাসপাতালে দুই বছর থাকতে হবে।

সরকারি দলের সদস্য বেগম ঝর্ণা গ্লোরিয়া সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নকল-ভেজাল ঔষধ সনাক্তকরণের বিষয়ে অনলাইন ভিত্তিক রিপোর্টিং এর জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল এপ্লিকেশন চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায় প্রকল্পটি বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধন সকল দেশি এবং বিদেশি ঔষধের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অনুমোদিত বিক্রয়মূল্য ঔষধের মোড়ক সামগ্রীতে (কার্টন ও লেবেলে) মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক। ঔষধ উৎপাদনকারী ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান সকল ঔষধের মোড়কসামগ্রীতে (কার্টন ও লেবেলে) ঔষধের মূল্য মুদ্রণ করতঃ বাজারজাত হয়ে থাকে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত ফার্মেসি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদারকি করে থাকে।

Leave a Reply