কর্ণফুলীতে ট্যাংকার ফুটো হয়ে ৮ হাজার লিটার তেল পানিতে

কর্ণফুলীতে ট্যাংকার ফুটো হয়ে ৮ হাজার লিটার তেল পানিতে

কর্ণফুলী নদীতে লাইটারের (ছোট জাহাজ) সঙ্গে তেলবাহী জাহাজের (ট্যাংকার) সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ তেল নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাইটার জাহাজ সিটি-১-এর সঙ্গে ট্যাংকার দেশ-১-এর সংঘর্ষ হয়। এরপর ট্যাংকারে ছিদ্র হয়ে কর্ণফুলী সেতু থেকে রিভারমাউথ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে তেল শুষে নিতে বন্দরের বিশেষায়িত জাহাজ বে ক্লিনার-১ এবং বে ক্লিনার-২ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাদের সহযোগিতা করে কাণ্ডারি-১০ ও কাণ্ডারি-১১ নামের দুটি জাহাজ। বন্দরের মেরিন বিভাগের রাত-দিন চেষ্টার পর গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত আট হাজার লিটার তেল শুষে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দিন-রাত চেষ্টার পর ১৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ১০ হাজার লিটার তেল থেকে আমাদের টিম আট হাজার লিটার তেল শুষে নিতে সক্ষম হয়েছে। এখনো কাজ চলছে। সব তেল শুষে না নেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর জড়িত জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর ক্ষতিপূরণ আদায় করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।’ জানা গেছে, দুর্ঘটনায় পড়া দুটি জাহাজ এবং তাদের মাস্টারকে আটক করা হয়েছে।

শুষে নেওয়া তেল কী করা হবে জানতে চাইলে বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, এগুলো বে ক্লিনার জাহাজ থেকে অপসারণ করে কোনো তেল পরিশোধনকারী রিফাইনারিতে পাঠানো হবে। এরপর পানি সরিয়ে সেই তেল ইটভাটার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিজেল হিসেবে আর ব্যবহার করা যাবে না।

Leave a Reply