আবরারের মরদেহ হলগেটে রেখে অভিযুক্তদের সঙ্গে রাত কাটান দুই শিক্ষক

আবরারের মরদেহ হলগেটে রেখে অভিযুক্তদের সঙ্গে রাত কাটান দুই শিক্ষক

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ পাশে রেখে নির্লিপ্ত ছিলেন দুই শিক্ষক। হত্যাকাণ্ডর পর শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে হলগেটে আলাপ করছিলেন অভিযুক্তরা। সেই মুহূর্তের ভিডিওতে সবাইকে নির্লিপ্ত দেখা গেছে।

জানা গেছে, আবরারের মরদেহ ফেলে রেখেই ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে রাত পার করেন প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আবরারের রক্তাক্ত মরদেহের পাশেই অভিযুক্ত হত্যাকারীরা আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন প্রভোস্ট এবং ছাত্রকল্যাণের পরিচালকের সঙ্গে।

ওই সময় আবরারকে হাসপাতালে নেয়ার কোনো উদ্যোগ তাদের মধ্যে দেখা যায়নি। এদিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের। তার প্রথম দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১০ আসামিকে পৃথক ও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

গতকাল বুধবার আরো তিনজনকে রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। সবমিলিয়ে ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকে এ ঘটনায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন, আবরারকে থেমে থেমে পাঁচ ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় নির্যাতন। তিন দফায় মারধরের একপর্যায়ে মারা যান আবরার। রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আবরারকে মারধরে অংশ নিয়েছিল ২৪-২৫ জন।

জানা গেছে, ঘটনার রাতে অমিত সাহার কক্ষে প্রথম দফায় মারধরে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। তার সঙ্গে যোগ দেন বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ও উপসমাজ সেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল। পরে অনিক, জিওন, মনির এবং মোজাহিদুলসহ অন্যরা যোগ দেন।

আরো জানা যায়, প্রথম দফায় মারপিট চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। রাতের খাবার খাওয়ানোর পর আবরারকে ব্যথানাশক ট্যাবলেটও দেয়া হয়। সেবি সঙ্গে দেয়া হয় মলম। দ্বিতীয় দফা মারধর শুরুর সময় অনিক ছিলেন সবচেয়ে মারমুখী। তখন আবরার বারবার বমি করছিলেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্নার কক্ষে। সেখানে আবরারের শরীরের ওপর অনিক ক্রিকেট স্ট্যাম্প ভাঙেন। পরে আরেকটি স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। তৃতীয় দফার মারধর শুরু হয় মধ্যরাতে, সেটা মুন্নার কক্ষে।

নির্মম মারধরে আবরার মারা যান। তার নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। সিঁড়িতেই মরদেহ রেখে স্থান ত্যাগ করেন তারা। এরপর এ নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে। সংশ্লিষ্টরা ঘাতকদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তোমাদের কিছুই হবে না। তোমরা হলেই অবস্থান কর।

ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বিঘ্নে আবরারকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছেন, তারাই রাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন হল প্রভোস্ট জাফর ইকবাল খান ও বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। ঘটনার পর তারা হলের গেটেই অবস্থান করেন।

সকালে হল সরগরম হয়ে উঠলে শুরু হয় অভিযুক্তদের ছোটাছুটি। সবচেয়ে বেশি মারধর করা অনিক ওরফে মাতাল অনিক দৌড়ে চলে যান তার কক্ষের দিকে। পরে ডাকা হয় চিকিৎসককে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা ওই চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply