ভারত সীমান্ত অভিমুখে কাশ্মীরের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী

ভারত সীমান্ত অভিমুখে কাশ্মীরের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ভারত সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। পাকিস্তানের জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট বা জেকেএলএফ’র বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, জেকেএলএফ’র অন্যতম নেতা রফিক দার বলেছেন ভারতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা না আসলে এই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হবে। রফিক দার আরো বলেছেন, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে ভুল করেছে ভারত। সেই ভুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন। বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে শনিবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সতর্ক করেছিলেন। তবে সীমান্ত পার না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের যুবকরা। মুজফফরাবাদ থেকে গরহি দুপাট্টা হয়ে সীমান্তের কাছে পৌঁছনোর কথা তাদের। মুজফফরাবাদ-শ্রীনগর হাইওয়ে ধরে এই বিক্ষোভ মিছিল চলবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মিছিলের ওপর কড়া নজর রেখেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের মিলিটারি অবজারভার গ্রুপও এই মিছিলে নজর রাখছে বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে ভারতের কাছে জাতিসংঘের আবেদন কোনো সামরিক শক্তি যেন প্রয়োগ না করা হয়।

এর আগে উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের সামনে পাকিস্তানের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে কাশ্মীরে সন্ত্রাস চালানোর জন্য পাকিস্তান গত ৭০ বছর ধরে পরিকল্পনা করে আসছে। কিন্তু নয়াদিল্লির ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

জয়শঙ্করের দাবি, এরপর কাশ্মীরে উন্নয়ন শুরু হলে পাকিস্তানের সব সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বানচাল হবে। ওয়াশিংটনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত সাময়িক। খুব দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোই মোদি সরকারের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করে জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাস বন্ধই একমাত্র পথ। যাতে আর কোনো প্রাণহানি না হয়, সেজন্য সচেষ্ট কেন্দ্র সরকার। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। সেখানে উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ।

ওই বক্তব্যে পাকিস্তানের সমালোচনা করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে কখনও গঠনমূলক কিছু করেনি পাকিস্তান। ফলে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পেরেছে।’

Leave a Reply