ভিসি নাসিরের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি

ভিসি নাসিরের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) বিতর্কিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিজয় দিবস হলের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে এক সঙ্গে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীরা অনেকে ফেসবুকে লাইভে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।
এর আগে বুধবার বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর একদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এই শিক্ষার্থীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন উপাচার্য কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এরকম ভাষায় কথা বলতে পারেন সেটি নিয়েও বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সুশীল সমাজে কড়া সমালোচনা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি ও প্রশাসনকে বিব্রত করার জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আইন বিভাগের সব শিক্ষার্থী ক্ষমা চেয়ে আবেদন এবং বিভাগের সব শিক্ষক ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও এ ঘটনায় জিনিয়ার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন। শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এনে এবং বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবেদন আমলে নিয়ে ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বিরুদ্ধে যে বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হলো।
এ ব্যাপারে জিনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে কোনো আবেদন দেইনি। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেন আমার হয়ে ক্ষমা চাইবেন, আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। আমি জানি শিক্ষার্থীরা মোটেই সেখানে যাননি।’
এ সকল ব্যাপারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যার ফলস্বরূপ রাত ৯টায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।
এ ব্যাপারে সহকারী প্রক্টর মো. হাফিজুর রহমান জানান, এই আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন আলোচনায় বসে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করবে।

Leave a Reply