কাশ্মীর ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়: রাশিয়া

কাশ্মীর ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়: রাশিয়া

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও চীন ওই বৈঠক থেকে একটি বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিল।

ওই বৈঠকের পর চীন বলেছে, কাশ্মীর বিষয়ে ভারত বা পাকিস্তানের একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। বৈঠকের পর চীন ছাড়া আর কোনো দেশ এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। অন্যদিকে, রাশিয়া বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বলেছে, কাশ্মীর ইস্যু ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়।

নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। শুধু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রই এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তোলে চীন। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এবং অস্থায়ী সদস্য জার্মানি এ ধরনের বিবৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করে। তারা বলে, এ ধরনের কোনো বিবৃতি দিতে হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া উচিত। পরে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

বৈঠক শেষে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুন বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই কাশ্মীর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এরই মধ্যে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক। অন্যদিকে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে রাশিয়ার উপস্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি সাংবাদিকদের বলেন, কাশ্মীর ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয়। তিনি জানান, এই বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা কাশ্মীর বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে এবং এ ব্যাপারে মতবিনিময় করবে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কিত বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় অবস্থান হলো, এটি পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকবরউদ্দিন বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে ভারত সরকার মূলত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হয়। কিন্তু তাতে কোনো প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়া থেকে পাকিস্তানকে সরে আসার আহ্বান জানান সৈয়দ আকবরউদ্দিন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের আলোচনার টেবিলে আসা উচিত। পাকিস্তান যেভাবে কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রদর্শন করছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কাশ্মীর ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হলো। এ বৈঠকই পাকিস্তানের শেষ পদক্ষেপ নয়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে। জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দেয়। পরে চীনের পক্ষ থেকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

Leave a Reply