ব্র্যাকে চেয়ার এমেরিটাসের নতুন ভূমিকায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ

ব্র্যাকে চেয়ার এমেরিটাসের নতুন ভূমিকায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ

বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারপারসন পদ থেকে অবসর নিয়েছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। নিয়মিত এ দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও তিনি সম্মানসূচক চেয়ারপারসন এমেরিটাস পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারপারসনের পদে আসছেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদে সাতটি পদে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদেও। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৮৩ বছর বয়সী ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের পাশাপাশি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদেও চেয়ারপারসনের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম আছেন। তিনি এখনো অনেক কাজ করেন। এরপরও তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির ভালো পরিচালনার প্রয়োজনে।

মঙ্গলাবার নৈশভোজের ওই অনুষ্ঠানে ফজলে হাসান আবেদের বিদায়ের ঘোষণার সময় বেশ কয়েকজন অতিথি ছিলেন। সেখানে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন। ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারপারসনের পদে অধিষ্ঠিত হতে যাওয়া হোসেন জিল্লুর রহমান ওয়ান ইলেভেনের পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ১১ মাস উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭২ সালে ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ব্র্যাক। এ এনজিওটি এখন বিশ্বের সর্ববৃহত্ এনজিও হিসেবে স্বীকৃত। এশিয়া, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ডজনখানেক দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন বিশেষ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রয়াসে বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটির (ব্র্যাক) কার্যক্রম শুরু হয়। গণশিক্ষা থেকে শুরু করে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মতো কাজের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয় ব্র্যাকের কার্যক্রম। অনেকেই মনে করেন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হোসেন আবেদের নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। অনেক ডিগ্রি আর স্বীকৃতি আছে তার জীবনে। ১৯৮০ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার পাওয়ার পর জীবনে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার, স্পেনিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট, লিউ টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল ইত্যাদি। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে ফরচুন ম্যাগাজিনের নির্বাচিত ৫০ বিশ্বনেতার মধ্যে ফজলে হাসান আবেদের নাম স্থান পেয়েছিল।

ফজলে হাসান আবেদের জন্ম ১৯৩৬ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামে। তার উচ্চতর পড়াশোনা হয় লন্ডনে, হিসাব বিজ্ঞানে। পড়াশোনার পর তিনি একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পাকিস্তান শাখায় যোগ দিলেও ১৯৭০ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বদলে দেয় তার জীবনপথ। চাকরি ছেড়ে তিনি চলে যান লন্ডনে, সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত গঠনে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭২ সালে ফিরেই দেশ পুনর্গঠনে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করে কাজে নেমে পড়েন।

Leave a Reply