প্লেনের দরজা খুলে ৩,৫০০ ফুট ওপর থেকে ক্যামব্রিজের ছাত্রীর ঝাঁপ!

প্লেনের দরজা খুলে ৩,৫০০ ফুট ওপর থেকে ক্যামব্রিজের ছাত্রীর ঝাঁপ!

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী প্লেনের দরজা খুলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মাদাগাস্কার ভ্রমণের সময় তিনি প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

১৯ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর নাম আলানা কাটল্যান্ড। তিনি ব্রিটেনের নাগরিক। একটি সেসনা প্লেনে ভ্রমণ করার সময় ৩,৫০০ ফুট ওপরে থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়েন আলানা কাটল্যান্ড।

তদন্তকারীরা বলছেন, ছাত্রীটি ৫ বার প্যারানোইয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

জানা গেছে, আলানা প্লেনটি থেকে লাফিয়ে পড়ার আগে সহযাত্রী ব্রিটিশ পর্যটক রুথ জনসনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছিলেন। তিনি বেশ কয়েক মিনিটের জন্য আলানাকে প্লেনে আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

সে সময় ছোট্ট প্লেনটি বাতাসে কাঁপছিল। জনসনে এবং পাইলট আলানার পায়ে জড়িয়ে ধরে তাকে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে আটকাতে চেয়েছিলেন ।

স্থানীয় পুলিশরা জানিয়েছেন, মেয়েটি তাকে মুক্ত করে প্লেন থেকে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়তে সমর্থ হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা প্রত্যন্ত আনালালভা অঞ্চলে তার মরদেহের সন্ধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তবে তারা আশঙ্কা করছেন, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ার কারণে তাকে আর কখনও খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে না।

পুলিশ জানায়, সেসনা সি-১৬৮ প্লেনটি অঞ্জাজবি থেকে জনসন, আলানা এবং পাইলটসহ তিনজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। প্লেনটি উড্ডয়নের ১০ মিনিট পরে আলানা তার সিটবেল্টটি সরিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি প্লেনের ডান পাশের দরজাটি খুলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশ বলছে, জনসন তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে পাঁচ মিনিট ধরে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু যখন ক্লান্ত হয়ে দম ফুরিয়ে গেল তখন আর বাধা দিতে পারেন নি।

আলানা তখন ইচ্ছাকৃতভাবে প্লেনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১৩০ মিটার ওপরে থাকা অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এমন এক জায়গায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন যা ‘কার্নিভোরাস ফোস্সা’ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

আলানার গবেষণা সংক্রান্ত ৬ সপ্তাহব্যাপী একটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই ঘটনার ৮ দিন পর তার বাবা আলিসন এবং মা নেইল কাটল্যান্ডের কথামতো তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গতকাল এক বিবৃতিতে আলানার বাবা-মা তাদের মেয়ের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, আমাদের কন্যা আলানা একজন উজ্জ্বল ও স্বাধীনচেতা তরুণী ছিল। আলানাকে যারা চিনতো সবাই তাকে ভালোবাসে ও সম্মান করে।

ওই বিবৃতিতে তারা জানান, আলানা সর্বদা তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ও সহায়ক ছিল। যার ফলস্বরূপ তার জীবনে বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিস্তৃত যোগাযোগ ছিল।

বাবা-মা বলেছেন, আলানা তার অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি দিয়ে প্রতিটি সুযোগকে উপলব্ধি করেছিল। সর্বদা সর্বোত্তম উপায়ে তার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা প্রসারিত করার চেষ্টা করেছিল সে।

তারা বলেন, আলানা প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী ছিল। সে দারুণ প্রতিভাধর এবং সৃজনশীল ছিল। বিশ্বের বিভিন্নস্থানে অনুসন্ধানের জন্য তার প্রবল আকাংখা ছিল। জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের সর্বাধিক ব্যবহার করেছে সে।

আলানার বাবা-মা বলেছেন, আমাদের অপূর্ব সুন্দর মেয়েটিকে হারিয়ে আমাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, আলানা প্রাণী জীববিজ্ঞান প্রকল্পে উপকূলের কাঁকড়া সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণারত ছিলেন। এই গবেষণার খরচ নিজেই যুগিয়েছিলেন তিনি। তবে তিনি ৫ বার প্যারানোইয়া নামে রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সূত্র : দ্য সান

Leave a Reply