বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’ সম্বোধনে নিষেধাজ্ঞা

বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’ সম্বোধনে নিষেধাজ্ঞা

সিনেমা, সিরিয়ালে, কোর্টরুমে বা বাস্তবের মাটিতে আদালতের বিচারপতিকে ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইওর অনার’ বলে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। বিচারপতিদের এ সম্বোধন করাটা অনেক পুরোনো রীতি। আবার এটি ব্রিটিশদের চালু কার একটি প্রথাও। আর আজ থেকে এই সম্বোধন করতে হবে না বিচারপতিদের। তবে বাংলাদেশে নয় ভারতের রাজাস্থানে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিচারপতিদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজাস্থান হাইকোর্ট। এ বার থেকে বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’ বলে সম্বোধন করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল আদালত। গত সোমবার এই মর্মে একটি নোটিস জারি করেন রাজাস্থান হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সতীশ কুমার শর্মা।

রাজাস্থান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভট্টের নেতৃত্বে রবিবার একটি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত সাম্যের নীতিকে মর্যাদা দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে ওই নোটিসে।

এদিকে ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’ সম্বোধনে নিষিদ্ধ হলে বিচারপতিদের যাতে অসম্মান না করা হয়, সে দিকেও খেয়াল রেখেছে আদালত। নোটিশে জানানো হয়েছে, ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’-এর পরিবর্তে তাঁদের ‘স্যর’ বলে সম্বোধন করা যেতে পারে।

এর আগে ২০১৪ সালে এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি এইচ এল দাত্তু ও বিচারপতি এস এ বোবদের বেঞ্চ জানিয়েছিল, বিচারপতিদের সম্মান জানানোটা জরুরি হলেও সে জন্য তাদের ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইয়োর অনার’ বলে সম্বোধন করাটা বাধ্যতামূলক নয়।

ভারতের আইনজীবীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় ব্রিটিশ যুগের এই প্রথা অনুসরণ করা হলেও তা যে আধুনিক যুগে অচল, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের রীতি কেবল দাস প্রথাকেই মনে করিয়ে দেয়।

সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Reply