২৭ সেকেন্ডে গোল করেও হারল শেখ জামাল

২৭ সেকেন্ডে গোল করেও হারল শেখ জামাল

কিক অফ থেকে শুরু করে নিজেদের মধ্যে তিনটি পাস খেলল শেখ জামাল। ডেভিড ব্রুসের ৪ নম্বর পাসটি সতীর্থের পায়ে যাওয়ার আগেই ‘ইন্টারসেফ’ করে কেড়ে নিলেন আবাহনীর উইঙ্গার রুবেল মিয়া। তাঁরা দুইটি পাস খেলার আগেই প্রেসিং করে আবার বল কেড়ে নেন ডেভিড। কিরগিজ এই মিডফিল্ডারের পা থেকে শেখ জামালের অধিনায়ক সলোমন কিং। মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্তে শাখাওয়াত রনির উদ্দেশে থ্রু। উইং দিয়ে ওপরে ওঠা রনির ক্রস গোলমুখ থেকে টোকা দিয়ে জালে পাঠান আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লুসিয়ানো এরিয়া।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর ২৭ সেকেন্ডে চোখের পলকে গোল! বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে গোলটি দ্রুততম হয়েছে কি না, এখনো সেটি নিশ্চিত না। তবে দ্রুত এগিয়ে গিয়েও লাভ হয়নি শেখ জামালের। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় আবাহনী লিমিটেড। শেষ পর্যন্ত সাত গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এএফসি কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের আই লিগের চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভা পাঞ্জাবের মুখোমুখি হবে আকাশি-নীলরা। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে জ্বালানির জন্য এ জয়টি খুব প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। নাবীব নেওয়াজ জীবন, সানডে চিজোবাদের শরীরী ভাষাতেও ফুটে উঠেছে সেই ক্ষুধাটা। প্রথম মিনিটে গোল হজমের পর বাকি সময়টা খেলে গেছে জানপ্রাণ উজাড় করে।

১০ মিনিট পরেই সমতায় ফেরে তারা। জীবনের ফ্রি কিক থেকে হেডে সমতাসূচক গোলটি করেন আফগানিস্তানের ডিফেন্ডার মাশি সাইগানি। সমতায় ফেরা আবাহনীর আক্রমণের চাপে তাল হারিয়ে ফেলে জোসেফ আফুসির দল। ২৭ মিনিটে আত্মঘাতী গোল হজম তারই প্রমাণ। রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো ইন হেডে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন জামালের সেণ্টারব্যাক মনজুর রহমান মানিক ১-২।

৩৬ মিনিটে আচমকা ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। অবস্থা বেগতিক দেখে রেফারি আনিসুর রহমান সাগর তখনই খেলা বন্ধ করে দেন। বৃষ্টি শেষে মাঠ খেলার উপযোগী করতে সময় লেগে যায় এক ঘণ্টা ২৪ মিনিট। বৃষ্টিভেজা মাঠে আবাহনী যেন ফিরে আরও উজ্জীবিত হয়ে। পাল্টা আক্রমণ থেকে ৬৩ মিনিটে সানডের সঙ্গে ওয়ান টু করে বল পেয়ে গোলরক্ষক নাঈমের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান হাইতির বেলফোট, ১-৩ । ৭০ মিনিটে জীবন লিগে তাঁর অষ্টম গোল করে ম্যাচের স্কোর লাইন ৪-১ করেন। আবাহনীর জয় তখন কেবলই নিশ্চিত। কিন্তু সেই ম্যাচটাই ৮০ ও ৯০ মিনিটে জোড়া গোল করে জমিয়ে তোলেন জামালের বদলি উইঙ্গার জাকির হোসেন জিকু। বিপদ আঁচ করে বাকি অতিরিক্ত সময়ে অতি রক্ষণাত্মক হয়ে ম্যাচটা শেষ করে হাফ ছেড়ে বাঁচে ঐতিহ্যবাহীরা।

এই জয়ে ১২ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান থেকে লিগের প্রথম পর্ব শেষ করল আবাহনী। এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে এক ম্যাচ কম খেলা বসুন্ধরা কিংস। আর ১৩ পয়েন্ট নিয়ে জামালের অবস্থান অষ্টম।

Leave a Reply