‘নতুন ভারত গড়তে’ বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’

‘নতুন ভারত গড়তে’ বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’

নতুন ভারত গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতের শাসক দল বিজেপি যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করল, তাতে রামমন্দির স্থাপন ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ (ক) ধারা বাতিল করে শক্তিশালী নতুন ভারত গড়ার সংকল্প করা হয়েছে। ওই দুই ধারায় জম্মু-কাশ্মীরের ভিন্ন চরিত্র রক্ষিত। বিজেপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, সেই নতুন ভারতে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান থাকবে না। সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীকে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হবে।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলিদের উপস্থিতিতে এই ইশতেহার প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী পাঁচ বছর দেশ কোন পথে এগোবে, এই ইশতেহারে তা দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা দেশের সুরক্ষাপত্র, সম্মানপত্র, উন্নয়নপত্র। বিজেপি এই ইশতেহারকে বলছে ‘সংকল্পপত্র’। সেই সংকল্পপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিক নিবন্ধন সংসদের দুই কক্ষেই শুধু পাস করানো হবে না, গোটা দেশেই তা কার্যকর করা হবে।

এবারের ভোটে বিজেপি বড় করে তুলে ধরেছে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নটি। পাঁচ বছরের ‘উন্নয়ন ও বিকাশ’ ছাপিয়ে বড় হয়েছে সীমান্তপারের সন্ত্রাস, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট অভিযান। ইশতেহারে তাই বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রে বলীয়ান করতে সরঞ্জাম কেনার ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মাত্র লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।

সংকল্পপত্রের একেকটি বিষয় নিয়ে একেকজন নেতা কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দল সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ছয় কোটি মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই সংকল্পপত্র তৈরি করা হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ভারত ছিল বিশ্বের একাদশতম অর্থনীতি, বিজেপির পাঁচ বছরের শাসন শেষে ভারত এখন পঞ্চম স্থানে। সারা পৃথিবীর কাছে ভারতের মর্যাদা বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, আগামী দিনে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে অনুপ্রবেশমুক্ত করে তোলা হবে। নাগরিক নিবন্ধন ধীরে ধীরে দেশের অন্যত্রও তৈরি করা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, দেশকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো করেছেন। অথচ বিরোধীরা তাঁর বিদেশ সফর নিয়ে কটাক্ষ করেন। অর্থনীতির অগ্রগতির কথা বলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি বলেন, এই সংকল্পপত্র টুকরো টুকরো ভাবনার সংকলন নয়। দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে আজ কোন জায়গায় পৌঁছেছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে। প্রতিটি দেশ ভারতকে আজ সমীহ করে। অথচ পাঁচ বছর আগে এই দেশটাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগত। হতাশায় ভুগত।
গত পাঁচ বছরে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের খতিয়ান এই সংকল্পপত্রে স্থান পেয়েছে। সংকল্পপত্র তৈরি করা হয়েছে আরও পাঁচ বছর এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে ধরে নিয়েই। মোট ৭৫টি প্রতিশ্রুতি এই সংকল্পপত্রে স্থান পেয়েছে, যেগুলো সরকার পূরণ করবে। নতুন সেসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের মধ্যে সব গৃহহীন অথবা যাঁদের মাটির ঘর, তাঁদের সবার জন্য পাকা বাড়ি, এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য সুদহীন কিষান ক্রেডিট কার্ড ১ লাখ রুপি পর্যন্ত, ১০০ লাখ কোটি রুপির অবকাঠামো তৈরি ২০২৪ সালের মধ্যে।

Leave a Reply