সমতা ফেরাতে উইন্ডিজের প্রয়োজন ২৫৬ রান

সমতা ফেরাতে উইন্ডিজের প্রয়োজন ২৫৬ রান

টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচে ভাল খেলে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু দুর্দান্ত খেলে প্রথম ওয়ানডেতেও বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে মাশরাফি বাহিনী।

হারের বৃত্ত থেকে যেন বের হতে পারছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না উইন্ডিজরা। অন্যদিকে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঢাকাতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।

এর আগে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বংলাদেশ। শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে পায়ে আঘাত পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন।

এরপর ক্রিজে এসেই ফেরেন ইমরুল। তবে সাম্প্রতিক ফর্মের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ওশানের অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে আসেন। ফেরার আগে রানের খাতায় খুলতে পারেননি এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

পরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে। দুজনই ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। উভয়ই ফিফটি তুলে প্রতিপক্ষ শিবিরে চোখ রাঙাতে থাকেন। এতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে হঠাৎই খেই হারান তামিম। দেবেন্দ্র বিশুকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে কেমার রোচকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। ফেরার আগে ৬৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় কাঁটায় ৫০ রান করেন ড্যাশিং ওপেনার। এটি তার ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি মুশফিক। তিনিও তামিমের পথ ধরে সাজঘরে ফেরেন। ওশানে থমাসের দুর্দান্ত ডেলিভেরিতে উইকেটের পেছনে শাই হোপের গ্লাভসবন্দি হন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

৮০ বলে ৫ চারে ৬২ রান করে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা শুরু করেন মুশফিক। ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে ফেরার আগে তামিমের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়েন তিনি। এ সুবাদে একটি চূড়ায় ওঠেন তারা।

বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি জুটি গড়ার নজির স্থাপন করেন দুই ব্যাটিং স্তম্ভ। দেশসেরা ওপেনারের সঙ্গে এটি ছিল তার পঞ্চম শতরানের জুটি।এর আগে চারটি সেঞ্চুরি জুটি নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন সাকিব ও মুশফিক।

তার পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দারুণ খেলছিলেন তারা। জমাট বেধে গিয়েছিল তাদের জুটি। তাতে স্বাচ্ছন্দে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন।

রোভম্যান পাওয়েলের বলে ওভার বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে শিমরন হেটমায়ারের তালুবন্দি হন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে ৫১ বলে ৩ চারে ৩০ রান করেন মিস্টার কুল। তবে বাংলাদেশ কক্ষপথেই ছিল।

মাহমুদউল্লাহ ফিরলে ক্রিজে আসেন সৌম্য। তখন দলীয় রান ছিল ৪০.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৩। এ অবস্থায় দলের রানটা বাড়ানোর দায়িত্ব ছিল তার। তবে ফের ব্যর্থ হন তিনি। ওশানে থমাসের বলে কাট করতে গিয়ে থার্ডম্যানে দেবেন্দ্র বিশুকে ক্যাচ দিয়ে আসেন বাঁহাতি ব্যাটার।

সুখবর মিলেছিল আগেই। স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী হাসপাতালে এক্স রে করা হয়েছিল লিটনের। এর রিপোর্ট ছিল পজিটিভ। পায়ে কোনো চিড় ধরা পড়েনি তার। তবে সামান্য ব্যথা ছিল।

৫ রান করার পর আহত হয়ে ফিরে যাওয়া লিটন ব্যাট করতে নামলেও আর মাত্র ৩ রান যোগ করে করতে পারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর থামে ৭ উইকেটে ২৫৫ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৫৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

Leave a Reply