চার মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ১৮.৬৫%

চার মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ১৮.৬৫%

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রফতানি আয় ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধি দুই-ই বেড়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি হয়েছে। এ সময় রফতানি আয় ছিল এক হাজার ৩শ’ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে সর্বশেষ অক্টোবর মাসে রফতানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে ,চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ২শ’ ১২ কোটি ৭ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে এক হাজার ৩শ’ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া গতবছরের একই সময় আয় হয়েছিল এক হাজার ১শ’ ৫০ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে,অক্টোবর মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩শ’ ৭১ কোটি ১৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২শ’৭৯ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত বছর অক্টোবর মাসে আয়ের পরিমাণ ছিল ২শ’ ৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে ভাল করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রফতানি আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন,বাংলাদেশের রফতানি খাত মূলত পোশাক নির্ভর। রফতানিতে পোশাক খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্রমান্বয়ে রফতানি আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি রফতানি আয় আরো বাড়াতে প্রচলিত বাজার ছাড়াও নতুন নতুন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং পোশাকের পাশাপাশি পণ্য বহুমূখীকরণ বিশেষ করে বেশি মূল্য সংযোজন হয় এমন পণ্য রফতানির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ও পরামর্শ দেন তিনি।

ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী,পোশাক খাতের নিট পণ্য (সোয়েটার,টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি আয় ও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দুই-ই বেড়েছে। ৫শ’ ২কোটি ১৮ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫শ’ ৮৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি রফতানি আয় হয়েছে।

গতবছরের প্রথম ১১ মাসে নিট পণ্যের রফতানি আয় ছিল ৪শ’ ৯৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। উক্ত সময় ওভেন পণ্যেও (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ। ৫শ’ ১৪ কোটি ২৭ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন পণ্য রফতানি হয়েছে ৫শ’ ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের। গতবছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ৪শ’ ৪৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি রফতানি হয়েছে।

জুলাই-অক্টোবর সময় কৃষিজাত পণ্যের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই খাতে রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার,যার প্রবৃদ্ধি ৮০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এর আয় বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

উক্ত সময় রাসায়নিক পণ্যের রফতানি আয় ৪০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় এই খাতের রফতানি আয় ছিল ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার। পেট্রোলিয়াম বাই প্রোডাক্ট রফতানি হয়েছে ১৬ কোটি ৬২ লাখ. যার প্রবৃদ্ধি ৮৮৮ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্য রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৩১ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া বেডশীট,কিচেন টয়লেট লাইন্স্সহ হোম টেক্সটাইল পন্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এছাড়া হিমায়িত মাছ, হ্যান্ডিক্রাফটস, সিমেন্ট, সল্ট, স্টোন, ইমারত তৈরির সরঞ্জাম ও সিরামিকের রফতানি আয় বেড়েছে। তবে চামড়া ও চামড়জাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যসহ আরো কিছু পণ্যের রফতানি আয় আগের বছরের তুলনায় কমেছে। বাসস।

Leave a Reply