রাজবাড়ীতে প্রচারণায় ব্যস্ত আ.লীগ উত্তাপ নেই বিএনপিতে

রাজবাড়ীতে প্রচারণায় ব্যস্ত আ.লীগ উত্তাপ নেই বিএনপিতে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী উত্তাপ ছাড়াচ্ছে রাজবাড়ী-১ (২০৯) ও রাজবাড়ী-২ (২১০) আসনের নির্বাচনী এলাকায়। পদ্মা বিধৌত ও রেলের শহর রাজবাড়ী। ১৯৮৪ সালে গোয়ালন্দ মহাকুমা থেকে রাজবাড়ী জেলার নামকরণ হয়। জেলার আয়তন ১,০৯২,২৮ বর্গ কিলোমিটার। পাঁচটি উপজেলা, তিনটি পৌরসভা ও ৪২টি ইউনিয়ন এবং ৮,০৮,৫৬৪ জন ভোটার রয়েছে।

নির্বাচনী মাঠ দখল ও সরকারের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ, নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি গঠন ও নির্বাচনী জনসভা করে চলেছে স্ব-স্ব আসনের ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং জোটের ১২ জন নেতা। তবে সরকার দলে রাজবাড়ী-১ এ অভ্যন্তরীন আর রাজবাড়ী-২ এ প্রকাশ্যে কোন্দল রয়েছে। যা নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা অনেকের।

এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলেও রাজবাড়ীর দুটি আসনে বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি ছাড়া নির্বাচনী কোনো কার্যক্রম পালনে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভক্তি থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক দুই এমপিসহ পাঁচ নেতা কেন্দ্রের নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তবে একক প্রার্থী দিয়ে দুটি আসনেই বিজয় লাভ করতে চায় দলটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে হ্যাভি ওয়েট সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী থাকায় আলোচনা নেই জাতীয় পার্টি। তবে ১৪ দলের শরীক দল হিসেবে ভালো অবস্থান রয়েছে জাতীয় পার্টির।

রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ)

রাজবাড়ী-১ (২০৯) (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ) উপজেলা নিয়ে গঠিত সংদীয় আসনে রয়েছে দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং এ সংসদীয় আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪,৬,৩৭২ জন। এতে পুরুষ ভোটার ১৭,৪০,৩৯ জন এবং নারী ভোটার ১৭,২,৩৩৩ জন।

ভোটাররা রাজবাড়ী-১ আসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন বলে মনে করেন। অন্যান্য জেলার তুলনায় রাজবাড়ীকে দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবেও ভাবেন অনেকে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে এমন একজন প্রার্থীকে তারা বিজয়ী করবেন। যিনি শান্তিপূর্ন পরিবেশ রাখতে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পালনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। এমন একজন প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চায় সাধারণ ভোটররা।

আওয়ামী লীগ

রাজবাড়ী-১ নির্বাচনী এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে কোনো বিভেদ না থাকলেও পাঁচ জন সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অভ্যন্তীরন কোন্দল রয়েছে। এ আসনে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দাল থাকলেও মনোনয়নের দৌড়ে আওয়ামী লীগে চারবারের এমপি বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কেরামত আলী এগিয়ে আছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আকবর আলী মর্জি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও রাজবাড়ী জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এসএম নওয়াব আলী।

মনোনয়ন প্রত্যাশী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, বিগত নয় বছরে রাজবাড়ী-১ আসনে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, ব্রিজ-কালভার্ট, পিটিআই ভবন, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নির্বাচন অফিস, নতুন জেলখানা, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বহু উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১০০ শয্যা থেকে রাজবাড়ী হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, কোটি টাকা ব্যয়ে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, রাজবাড়ী গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন, মহাসড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। যা আগামী নির্বাচনে দলের নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিএনপি

জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এমএ খালেকের মধ্যে বিরোধ থাকায় জেলা বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। দায়সারাভাবে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করতে দেখা গেছে। অনেক সময় পুলিশি হামলা ও বাঁধার ভয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সীমিত আকারে ওইসব কর্মসূচি পালন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-১ আসনের কোনো এলাকায় বিএনপির তেমন কোনো প্রচার-প্রচরাণা দেখা যায়নি। জেলা বিএনপির মূল ধারায় বিভক্ত থাকলেও মনোনয়নের দৌড়ে বিএনপিতে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ খৈয়মকে এগিয়ে রেখেছেন অনেকে। এখন শুধু কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষা।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এমএ খালেক।

মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, তিনি তিন বার রাজবাড়ী পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং একবার রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ছিলেন। তার সময়ে রাজবাড়ী শহরের যে উন্নয়ন হয়েছে তার ছিটে ফোটাও এখন হচ্ছে না। সব কিছুর উর্ধ্বে হলো দল। তাই দলের ক্রান্তিকালেও তিনি পিছপা হননি। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি রাজবাড়ীতে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন।

জাতীয় পার্টি

এ আসনে উপজেলা ও ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান রয়েছে। এ আসনে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হলেও মহাজোট গত ভাবে ওই দুটি নির্বাচন হওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে দলটি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। তবে এবার রাজবাড়ী-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চুর নাম শোনা যাচ্ছে।

আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ চার বার ও বিএনপি একবার ক্ষমতায় এসেছিল।

রাজবাড়ী-১ আসনের অতীত পরিসংখ্যান

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির আব্দুল খালেককে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী চৌধুরী, তার মৃত্যুর পর ১৯৯২ সালের উপ-নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগের কাজী কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফাকে পরাজিত করে এমপি হন কাজী কেরামত আলী। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের কাজী কেরামত আলীকে পরাজিত করে এমপি হন বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। ২০০৮ সালে বিএনপির আলী নেওয়া মাহমুদ খৈয়মকে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের কাজী কেরামত আলী এবং ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি আবারও এমপি হন। বর্তমান তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

রাজবাড়ী-২ (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী)

রাজবাড়ী-২ (২১০) (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) উপজেলা নিয়ে গঠিত সংদীয় আসনে রয়েছে তিনটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়ন এবং এ সংসদীয় আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৬,১,১৯২ জন। এতে পুরুষ ভোটার ২৩,৩,৮৬৭ জন এবং নারী ভোটার ২২,৭,৩২৫ জন। ভোটাররা মনে করেন বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেক উন্নয়ন ভূমিকা রাখলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কারণে এ আসনের নির্বাচনে ভোটের প্রভাব পড়বে। তারা উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি চান।

আওয়ামী লীগ

রাজবাড়ী-২ আসনে আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী পাঁচ জন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যানার, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, সভা, গণসংযোগ করছেন। প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দল থাকলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সেটা মানতে নারাজ। তারা বলছেন দলের অঙ্গ সংঘঠন থেকে কেউ প্রার্থী হলে সেটা আওয়ামী লীগের প্রার্থী না। তবে ভোটের মাঠে মনোনয়নের দৌড়ে আওয়ামী লীগের তিন বারের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল এগিয়ে আছেন।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম এমপি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক নূরে আলম সিদ্দিকী হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটির সদস্য, সলিসিটর মুহাম্মদ মেহেদী হাসান।

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম এমপি জানান, তিনি তিন বারের এমপি এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ের জন্যই নির্বাচনে পর থেকেই আবার নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। বিএনপির আমলে সবাই অশান্তির মধ্যে ছিল কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সাধারণ জনগণসহ সবাই শান্তিতে আছে। এছাড়া পুনরায় নির্বাচিত হলে জনগণকে ভালো রাখতে যে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ রয়েছে সেগুলো শেষ করার চেষ্টা করবেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সনাল জানান, রাজবাড়ী-২ আসনে তার ব্যাপক সমর্থক রয়েছে। তিনি নির্যাতিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তিনি কখনো কারও ক্ষতির কারণ হননি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে রাজবাড়ী-২ আসনে তিনি এমপি প্রার্থী হবেন।

বিএনপি

জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি নাছিরুল হক এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মধ্যে বিরোধ রয়েছে। জেলা কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত থাকায় ঘরোয়া পরিবেশে সভা সমাবেশ ছাড়া রাজপথে তেমন দেখা যায়নি। তবে রাজবাড়ী-২ আসনের কিছু কিছু স্থানে বিএনপি গণসংযোগ করেছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজবাড়ী-২ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি নাছিরুল হক সাবুকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি নাছিরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিল্পপতি লায়ন অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি নাছিরুল হক সাবু জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তার দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে নানাভাবে বাঁধা সৃষ্টি করে নেতাকর্মীদের বিছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও হামলা-মামলার ভয় উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেছেন।

জাতীয় পার্টি

এ আসনে জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা জাপার সভাপতি আবুল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।
আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বারের তিন বার আওয়ামী লীগ ও একবার একবার করে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি ও জামায়াত।

রাজবাড়ী-২ আসনের অতীত পরিসংখ্যান

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ আসনে আওয়ামী লীগের নাছির উদ্দিনকে পরাজিত করে এমপি হন জামায়াতে ইসলামের মরহুম ডা. একেএম আসজাদ। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির এবিএম নুরুল ইসলামকে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের মো. জিল্লুল হাকিম। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মো. জিল্লুল হাকিমকে পরাজিত করে বিএনপির নাছিরুল হক সাবু এমপি হন। ২০০৮ সালে বিএনপির নাছিরুল হক সাবুকে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের মো. জিল্লুল হাকিম এবং ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি হন আওয়ামী লীগের মো. জিল্লুল হাকিম।

Leave a Reply