আমার পরিবার এখন বাংলার ১৬ কোটি জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

আমার পরিবার এখন বাংলার ১৬ কোটি জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উচ্চ পর্যায়ের নেতারা অনেক সময় ভুল করে, এ অভিজ্ঞতা আমার আছে। বঙ্গবন্ধু যখন ৬ দফা দিলেন তারা ৮ দফা নিয়ে চলে এলো। বড় বড় নেতারা বিভ্রান্ত হয়, কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা কখনও বিভ্রান্ত হয়নি। তাই তো তারা সব সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকেছে, ৬ দফার প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বার, কাউন্সিলরাও অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের পথ দেখিয়েছেন। আমার রাজনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহারা থাকবে না। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এ দেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

বাংলাদেশের যতো অর্জন সবই আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এসময় বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের রাজনীতি মানেই হত্যার রাজনীতি। নির্বাচন বানচালের নামে তারা আগুন দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ৫০০’র উপরে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। যারা রাজনীতি করবে তারা কিভাবে মানুষকে পুঁড়িয়ে মারে? কৃষক যখন সার চেয়েছে হত্যা করেছে। শ্রমিক যখন মজুরি বৃদ্ধির দাবি করেছে হত্যা করেছে। তাদের রাজনীতি মানুষ মারার রাজনীতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘​তৃণমূল সবসময় ঐক্যবদ্ধ ছিলো বলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ।’

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলো মন্তব্য করে তিনি বলেন: বাংলাদেশের মানুষ কখনও বাধা মানে নাই। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে বলেই ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। উন্নয়ন গুলো দৃশ্যমান হয়েছে। দেশের সকল উন্নয়ন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা দল ক্ষমতায় এলে মানুষ নিপীড়িত হয়।

তৃণমূলের নেতাকর্মী উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাবা-মা পরিবার সব হারিয়ে আমার পরিবার এখন বাংলার ১৬ কোটি জনগণ।’

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে খুনিরা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিলো তাদেরকে বাঁচাতে ওই জিয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলো। ৭৫’র পর ক্ষমতায় এসেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। স্বাভধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নতি হবে কি করে? খুনের আসামি, আন্ডারগ্রাউন্ড লোকদের রাজনীতিতে এনে জিয়া দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করেছে বলেন অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।’

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির হয়ে ক্ষমতায় এলেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। এতিমের টাকা তাও তারা চুরি করে খেয়েছে। দেশে বিদেশে সেই টাকা ধরা পড়েছে। যুবসমাজ ধ্বংস ছাত্রসমাজ ধ্বংস করা হলো। তাদের রাজনীতি ধ্বংসের রাজনীতি।’

বিদেশে জাতির পিতার সঙ্গে ভ্রমণের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আব্বার চিন্তা-ভাবনায় ছিল এ দেশের মানুষ। একদিন ইউরোপের একটি শহরে যাচ্ছি আমার স্বামীর কর্মস্থলে। বাবাও ছিলেন সঙ্গে।

‘রাস্তার পাশে সুন্দর ও সাজানো গ্রাম দেখে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। জিজ্ঞাসা করলেই বললেন- মা, আমরা একদিন স্বাধীন হবো। এরপর আমি আমাদের গ্রাম ও ইউনিয়নকে এভাবেই গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্যটাই ছিল বাংলাদেশের গ্রামকেন্দ্রিক। এজন্য স্বাধীনতার অল্পদিনের মধ্যেই আমাদের একটি সংবিধান উপহার দেন। তিনি গ্রাম ও সেখানকার মানুষের সকল কল্যাণের জন্য।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যান, মহানগরের অধীন সংগঠনের প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচিত কাউন্সিলার (দলীয়) এবং জেলা পরিষদের নির্বাচিত দলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আগামী ৭ জুলাই ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও খুলনা বিভাগের নেতাদের জন্য বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply