‘গ্যাসের অপচয় রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা’

‘গ্যাসের অপচয় রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা’

রাজধানীর অনেক বাসা-বাড়িতে গ্যাসের অপচয় হয় এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাসা বাড়িতে পানি ফোটাতে দীর্ঘসময় চুলা জ্বালিয়ে রাখা ছাড়াও কাপড় শুকানো অথবা ম্যাচের কাঠি বাঁচাতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। গ্যাসের চুলায় রান্না নাগরিক জীবনে এনে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য। এছাড়া গ্যাস বেশি জ্বালালেও বিল নির্দিষ্ট। গ্যাস না জ্বালালে বা কম জ্বালালে কিংবা অতিরিক্ত জ্বালালেও বিলের পরিবর্তন হয় না। তাই সিংহভাগ ব্যবহারকারী গ্যাসের অপচয় রোধে বে-খেয়াল। কেউ কেউ কাপড় শুকাতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। শীতের সময় গৃহ তপ্ত করার জন্যও অনেকেই চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। আবার কেউ কেউ একটি ম্যাচের কাঠি ব্যবহার করবেন না বলেও দিন-রাত চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। তাই এসব অপচয় রোধে জনসচেতনতা প্রয়োজন। সবাই সচেতন হলেই এ অপচয় রোধ সম্ভব।

এসব অপচয়সহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গরম মৌসুমে অনেক সময় গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়, আর এখন শীতের কারণে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সঙ্কট আরও প্রকট হয়েছে। অথচ গ্রাহকদের উদাসীনতায় প্রায়ই গ্যাস অপচয়ের ঘটনা ঘটে।

এদিকে, গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস রোধ, ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে সকল আবসিক গ্যাস গ্রাহকের জন্য প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন সময়ের মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষরিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে এসব বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক কমবেশি ৩,৫০০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন কিউবিক ফুট) গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে গড়ে ২,৭৪০ এমএমসিএফ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ৮০০ এমএমসিএফ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

বর্তমানে অবশিষ্ট গ্যাসের মুজুদের পরিমাণ প্রায় ১২.৭৪ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট)। এ মজুদ হতে এখনই চাহিদা পুরণ করা হচ্ছে না।

তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে বর্তমান মজুদ হতে গ্যাস উৎপাদনের হার সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাবে। পরবর্তীতে বর্তমানে মজুদ হতে গ্যাস উৎপাদনের হার দ্রুত হ্রাস পেতে থাকবে। সুতরাং উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন গ্যাস মজুদ আবিষ্কার এ মুহূর্তে গ্যাস সেক্টরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা বলছেন, গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ভূ-তাত্বিক জরিপ ৫৭০ লাইন কি.মি দ্বিমাত্রিক জরিপ ১২,৮০০ কিমি এবং ত্রিমাত্রিক জরিপ ২৮৪০ বর্গ কিমি সম্পন্ন করা হবে। গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধির জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

বাপেক্স কর্তৃক ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১০৮টি কুপ খনন (৫৩টি অনুসন্ধান কূপ, ৩৫টি উন্নয়ন কুপ এবং ২০টি ওয়ার্কাওভার কূপ) খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সকল কূপ হতে আনুমানিক দৈনিক ৯৪৩- ১১০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হবে আশা করা যায়। এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যে দৈনকি ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ল্যান্ড বেসড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস রোধ, ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল আবসিক গ্যস গ্রাহকের আঙ্গিনায় প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হবে।

গ্যাসের অপচয় রোধ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ডিভিশন) প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম বলেন, অনেকেই একটি ম্যাচের কঠি অপচয়ের ভয়ে চুলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখেন। অকারণে চুলা জ্বালিয়ে রাখেন দীর্ঘ সময় এতে করে ব্যাপকভাবে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। গ্যাসের অপচয় রোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবাই সচেতন হলে গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব। প্রতিটি গ্রাহককে উপলব্ধি করতে হবে গ্যাস অপচয়ের জন্য আমাদের সবার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই চাহিদার বিপরীতে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

Leave a Reply