1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এক কিস্তির অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন ওয়ালটন প্লাজার ক্রেতারা সিলেট টেস্টে মুমিনুলের বদলি কে, জানাল বিসিবি মুক্তির আগেই নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমা ‘কিং’ বৃষ্টির সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজও দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ করতে চাই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে ঢাকা, তলানিতে বরিশাল বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ শ্রমিকদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ-সংঘর্ষে ১০ শিল্পপুলিশসহ অর্ধশতাধিক পোশাকশ্রমিক আহত

উপমহাদেশে ফলের রাজা আম৷

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৫ জুন, ২০১৪
  • ১৩৭ Time View

এ বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না৷ তার মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের আমের খ্যাতি ভুবনজোড়া৷ স্বাদে, গন্ধে আর রঙের বাহারে মন কেড়ে নেয়৷ উত্তর প্রদেশের দশেরি, ল্যাংড়া আর চৌষা জাতের আম তো ‘একম অদ্বিতীয়ম’!image_86393_0

উত্তর প্রদেশের আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদশাহি খানদানের ইতিহাস৷ যেমন আমের রাজা দশেরির কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষৌ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হলে পড়ে মালিহাবাদ নামে একটা জায়গা৷ উন্নত প্রজাতির আম দশেরির জন্য এই এলাকা চিহ্নিত৷ এখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আছে আমের বাগান৷ রাজ্যের মোট আমের ফলনের ১২.৫ শতাংশ আম এই মালিহাবাদেই হয়৷ তাই মালিহাবাদকে বলা হয় ‘‘আমের রাজধানী”৷

ভারতের আম উৎপাদক সংস্থার সভাপতি ইনসরাম আলি বলেন, এই মালিহাবাদেই আছে সবথেকে প্রাচীন আম গাছ৷ একই পরিবারের বংশধরেরা দেড়শো থেকে দু’শো বছর ধরে এই আম বাগানের দেখাশোনা এবং আমের ব্যবসা করে আসছেন৷
মালিহাবাদি আম বাগানের দশেরি, ল্যাংড়া, চৌসা, সফেদা এবং অন্যান্য বিখ্যাত জাতের আমের কাছে অন্য জাতের আম টিকতে পারে না৷ তাই আম রসিকদের কাছে মালিহাবাদ হলো, ‘‘গার্ডেন অফ ইডেন”৷ মালিহাবাদি দশেরি আমকে ২০১০ সালে দেয়া হয় ভৌগলিক বিশেষত্বের মর্যাদা বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডকেশন স্টেটাস, জিআই৷ অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এখানে হতো ১,৩০০ জাতের আম৷ এখন তা নেমে এসেছে ৭০০-তে৷

মালিহাবাদ আম বাগানের বর্তমান মালিক আমের জাদুকর পদ্মশ্রী কলিমুল্লা খান জানান, লক্ষৌ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কাকোরি বলে একটা গ্রাম আছে – যেখানে ৩০০ বছরের পুরানো একটা দশেরি আম গাছ আছে, যার মালিক ছিলেন লক্ষৌ-এর নবাব৷ প্রবাদ আছে, ওই বিরল জাতের আম গাছ অন্য কোথাও অন্য কেউ যাতে লাগাতে না পারে, তার জন্য ওই গাছের আমের আঁটিতে ফুটো করে দিতেন৷ পাখিরা যাতে মুখে করে অন্যত্র নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য পুরো আম বাগান ঘেরা থাকতো জাল দিয়ে৷ সেই থেকে ওই গ্রামের নাম হয় দশেরি গাঁও৷

স্থানীয় লোকজনদের মতে অবশ্য মালিহাবাদ এবং দশেরি আম নিয়ে নানা গল্পকথা আছে৷ কেউ কেউ বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে ফকির মহম্মদ খান ওরফে গয়া মালিহাবাদির নেতৃত্বে একদল আফ্রিদি পাঠান ভাগ্যান্বেশনে আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার গিরিপথের এক গ্রাম থেকে পেশাওয়ার হয়ে হিন্দুস্থানে আসে৷ প্রথমে তাঁরা আসে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে৷ সেখান থেকে অবধ-লক্ষৌ-এ৷ মহম্মদ খানের বীরত্ব এবং যুদ্ধ বিদ্যার নৈপূণ্য দেখে অবধের নবাব খুশি হন৷ বকশিস হিসেবে মহম্মদ খান ফলের বাগান করার অনুমতি প্রার্থনা করেন নবাব বাহাদুরের কাছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর হয়৷ কথিত আছে, মহম্মদ খান প্রথম মালিহাবাদে আমের চারা রোপণ করেন৷

তবে দশেরি আম বাগান সবই এককালে ছিল নবাবদের৷ পরে অন্যদের ইজারা দেয়া হয়৷ বাংলায় আমের খ্যাতি এককালে ছিল মুর্শিদাবাদের নবাব আমলে৷ এখনো বাংলার হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি আমের কদর আছে যথেষ্ট৷ কিন্তু সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় আম চাষিরা মার খায়৷

ভারতে ১২ লাখ হেক্টরে আমের ফলন হয় গড়ে বছরে ১১ লাখ টন৷ সবথেকে বেশি হয় অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে প্রায় ২৬ শতাংশ৷ তারপর বিহার পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে৷ জাতীয় হর্টিকালচারাল বিভাগ বিভিন্ন সংকর জাতের আম নিয়ে গবেষণা করছে৷ যেমন নীলম ও দশেরির সংকর জাতের আম হলো মল্লিকা৷ আম্রপালিও তাই৷ রত্না হলো আলফনসো আর নীলমের সংকর৷

আমের ফলন ভালো এবং উন্নত মানের হয় যেখানে গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় আবহাওয়া আছে৷ অর্থাৎ বৃষ্টি, আদ্রতা ও কুয়াশা থাকে৷ এই সব ভৌগলিক কারণে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম আম উৎপাদক দেশ৷ বিশ্বের ৬০ শতাংশ আম ভারতেই হয়৷ এর মধ্যে ৪০ শতাংশ আম রপ্তানি হয় প্রধানত ইউএই, কুয়েত ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে৷ কিছুটা হয় ইওরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতেও৷ রফতানি বাজারের বিশেষ চাহিদা আলফনসো আর দশেরি আমের৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ