চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ২ মন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ২ মন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ

দুদিনের সফরে আজ শনিবার ঢাকায় আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই দিন ঢাকায় পা রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকায় পা রাখছেন এই দুই মন্ত্রী।

গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামীকাল (আজ) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর শুরু হবে। চীন দূতাবাস ৫ আগস্ট থেকে তার সফর শুরুর প্রস্তাব দিলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কম্বোডিয়া সফরের কারণে তা এক দিন পেছানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ওয়াং ই। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীর ও বিস্তৃত। সে জায়গা থেকে আসন্ন সফরে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নবায়ন, নতুন সহযোগিতা, বিশেষ করে দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।’

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাইডেন প্রশাসনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি বর্তমান বৈশি^ক পরিস্থিতিতে খাদ্যনিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া বৈশি^ক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা ইস্যু থাকবে আলোচনায়। সিসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও কুয়েত সফরের কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসনের।

চীনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও গত মঙ্গলবার তাইওয়ানে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি তাইওয়ান ছাড়ার পর তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। গত বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ঢাকার চীনা দূতাবাস। ওই বিবৃতিতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অব্যাহতভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলবে। চীন বিশ্বাস করে, এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য পেইচিংয়ের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার মতো মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে উভয় দেশ সব সময় একে অপরকে বোঝে এবং সমর্থন করে।

এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বন করার পাশাপাশি উত্তেজনা বাড়াতে পারে, এই অঞ্চল এবং এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে, এমন কোনো কাজ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ‘এক চীন নীতির’ প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর