সারের দাম বাড়ায় বিএনপির উদ্বেগ নির্লজ্জতা : কৃষিমন্ত্রী

সারের দাম বাড়ায় বিএনপির উদ্বেগ নির্লজ্জতা : কৃষিমন্ত্রী

সারের দাম বাড়ায় বিএনপিসহ কিছু বাম দলের উদ্বেগ নির্লজ্জতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

আজ বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সারসহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। বিএনপি তাদের সময়ে কৃষককে সার দিতে না পেরে পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সারের উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখেছে। গত ১৩ বছরে সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের কোনো সংকট হয়নি।

তিনি বলেন, ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা পূর্ননির্ধারণ করেছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়ার সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। এর ফলে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে প্রতি কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের ভর্তুকি ছিল মাত্র ১৫ টাকা।

বর্তমানে দেশে সব ধরণের সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে- সেই ব্যাপারে আমরা নিবিড়ভাবে মনিটর করছি। কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বেশি নিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ফসলের জমিতে সুষম সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারি। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে। এটি করতে হলে আমাদের কৃষক ভাইসহ সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

ইউরিয়া সারের সুষম ব্যবহার করলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে না বলেও মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ করছি, সারের দাম বাড়ায় বিএনপিসহ কিছু বাম দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিএনপির সার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ তাদের চরম নির্লজ্জতার প্রমাণ বলে আমি মনে করি। তারা বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করে সমালোচনা করছে। তারা সরকারের সমালোচনা করছে।

কোভিড পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি। সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ইউরিয়া ৫৯ টাকা, টিএসপি ৮৬ টাকা, এমওপি ৯১ টাকা এবং ডিএপিতে ১০৭ টাকা।

বাংলাদেশ শীর্ষ খবর