‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে বিশ্বে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে’

‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে বিশ্বে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সারাবিশ্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে তুলে ধরার দরকার ছিল সেভাবে তুলে ধরতে পারিনি। কারণ আমাদের ইতিহাস নিয়ে লেখা ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের পরিবর্তে ভুল তথ্য জেনেছে।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর লেখা ‘ডক্টর আলিম এ মার্টার অফ ১৯৭১’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দীপু মনি।

মন্ত্রী বলেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আমরা বলছি। তবে সেখানে শহীদের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানুষ শুধু জানে যে গণহত্যা হয়েছে। বাংলাদেশের গণহত্যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করুক এটাই আমরা চায়। এজন্য গণহত্যার সঠিক তথ্য ও এর ভয়বহতা তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস রয়েছে। তাই নতুন করে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের সুযোগ নেই।

তবে আমরা চাই গণহত্যার প্রকৃত ইতিহাস এবং বাংলাদেশে গণহত্যা যে হয়েছে সেটা যেনো তারা জানে। এজন্য সরকার কাজ করছে। নতুন এ বইটির ইংরেজি অনুবাদ করায় গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে।

‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা নিয়ে বিশ্বে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে এখনো পাকিস্তানি মনোভাবের মানুষ চারপাশে রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে দিবে এ বইটি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়ার প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারগুলো দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রন্থাগার শিক্ষক পদ দেওয়ায় গ্রন্থাগারের মান বাড়বে বলে মনে হয়। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় বিষয় পড়ানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়ানো না হয় তাহলে পড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীয্যুষ বন্দোপাধ্যায়, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সংসদ সদস্য এরোমা দত্ত প্রমুখ।

বাংলাদেশ শীর্ষ খবর