মেধাসম্পদের উন্নয়ন এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে: শিল্পমন্ত্রী

মেধাসম্পদের উন্নয়ন এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, সরকার মেধা সম্পদকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মানদণ্ড ধরে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ও সূচকসমূহ নির্ধারণ করেছে। মেধাসম্পদের সুরক্ষা ও উন্নয়ন এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

সোমবার (১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় তথ্য ভবনে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্ত ঘোষ, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, সংস্কৃতি সচিব আবুল মনসুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিজ শরিফা খান।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক মেধাকে কাজে লাগিয়ে সম্পদে পরিণত করে শিল্প উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করা দরকার। কারণ ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টিই একমাত্র সম্পদ যার উৎস অসীম এবং সম্ভাবনা অফুরন্ত। এ সম্ভবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটি আমাদের মেধাসম্পদ নীতিমালা এবং শিল্পনীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণের স্বার্থে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আরও অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, যে চেতনাকে ধারণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে, বিশ্ব মানচিত্রে এখন প্রয়োজন এ দেশের উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে মেধাসম্পদের বিকাশ ও সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সময় এসেছে মেধাসম্পদ বিকাশ ও সংরক্ষণের। আর এজন্য দরকার একটি সুপরিকল্পিত ভিশন ও একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা।

তাই আজ সাতটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সীমিত সম্পদকে সমৃদ্ধ সম্পদে পরিণত করতে হবে। একাত্তরের চেতনাকে বুকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সুন্দর-সমৃদ্ধির দিকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাসম্পদ এমন একটি ধারণা, যা জাগতিক সব সম্পদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি রত্নভান্ডার যার মাধ্যমে এর স্বত্তাধিকারীই শুধু উপকৃত হয় না, উপকৃত হয় সবাই। ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি তথা পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক, জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য) বা কপিরাইট নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। যত বেশি মানুষ আইপি সচেতন হবে, আইপি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে, ট্রেডমার্ক বা কপিরাইট লঙ্ঘনের হার তত কমবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, নতুন উদ্ভাবন প্রকাশই মেধাসম্পদ। আর এ উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আমরা যত বেশি জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগাবো, তত বেশি সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশে মেধাসম্পদের সুরক্ষা বা নিবন্ধন নিয়ে সচেতনতার কিছুটা অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর, কপিরাইট অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের আরো বিস্তৃত পরিসরে প্রচার চালানো দরকার।

উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইট শীর্ষক উপ কমিটি গঠন করা হয়। এ সাব কমিটির কৌশলপত্র এ কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ শীর্ষ খবর