পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিকে কাজে লাগাতে হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। দেশ নিয়ে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্টদের ভালোভাবে আগে দেশটাকে চিনতে হবে।

আজ রবিবার (২২ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের প্রথম সভায় কাউন্সিলের সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০২১ থেকে ২০৪১ পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পানার পাশাপাশি ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যানও নিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো দায় না থাকলেও উন্নত দেশের সৃষ্ট এ সংকটে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় বেশ ভালোভাবেই আছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের বিশাল জলরাশিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। যত্রতত্র যেন অবকাঠামো গড়ে না ওঠে। পানি গতিপথ কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা মানুষের জন্য কোনো কাজই করেনি। জাতির পিতা মানুষের জীবন রক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীও তৈরি করে গেছেন। পরিকল্পতিভাবে পদক্ষেপ নিতে পারলে যে কোনো কঠিন কাজও সমাধান করা যায়।

এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি নীতিমালা তৈরি কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেল্টা প্ল্যানটা যদি আমরা ভালোভাবে একটা গাইডলাইন তৈরি করে প্ল্যান ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, আর যেহেতু এটা ২১০০ সাল পর্যন্ত, তাই সময়ের সাথে এটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন করতে হবে। সেইভাবেই কিন্তু আমাদের সমস্ত প্ল্যান হাতে নিতে হবে, নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি যে, ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের সভা থেকে একটা ভালো… যেসব এজেন্ডাগুলো আছে তার বিষয়ে ভালো একটা সুপারিশমালা যাবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নটা কীভাবে আমরা করতে পারি সেটা ত্বরান্বিত হবে এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ কীভাবে নেব সেটাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। সেইভাবে আমাদের এগোতে হবে।

শতবছরের পরিকল্পনা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারপারসন করে এ কাউন্সিল গঠন করে সরকার।

১২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করে গত বছরের ১ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বন্যা, নদীভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে বহু আলোচিত ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

‘ডেল্টা প্ল্যান’ নামে বেশি পরিচিত এ মহাপরিকল্পনার অধীনে আপাতত ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নেবে সরকার, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ২৯৭৮ বিলিয়ন টাকা।

ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলে কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া এই কাউন্সিলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীকেও সদস্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শীর্ষ খবর