অবশেষে জনসম্মুখে এলেন উত্তর কোরিয়ার  নেতা কিম জং উন

অবশেষে জনসম্মুখে এলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে অবশেষে জনসম্মুখে এলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। শনিবার ২১ দিন পর প্রথমবার দেখা গেল তাকে।  আজ শনিবার শানচোন সার কারখানা উদ্বোধনের জন্য ফিতা কাটেন তিনি। ওই সময় কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং উপস্থিত ছিলেন।

তিন সপ্তাহ পরে কিম জং উনের জনসম্মুখে আসা এবং ফিরেই যে জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কিমের হঠাৎ অন্তর্ধানে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি তাঁর মৃত্যু হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে যাবে সেটা নিয়ে প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ শনিবার জানিয়েছে, কিম রাজধানী পিয়ংইংয়ের উত্তরে সানচন শহরে ডিপিআরকে নামের একটি ফসফ্যাটিক সার কারখানার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন। যদিও তাঁর এই পরিদর্শন সফরটি হিসাবে বলা হয়েছে। তবে এই কারখানাটির দ্বিমুখী ব্যবহারের সুবিধার কারণে কয়েক বছর ধরে এটি উচ্চ-স্তরের মনোযোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়া সম্ভবত খাদ্য এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করতে পারে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

উত্তর কোরিয়ার ফসফ্যাটিক সারের দরকার আছে। তবে সেই প্রক্রিয়ার আড়ালে কিভাবে সহজেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যায় সেটা নিয়ে মন্টেরির মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী মার্গারেট কেরি গত মাসে একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে যে, ফার্টিলাইজার প্ল্যান্ট কিমকে কৃষিক্ষেত্রে সাহায্যের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বৃদ্ধিতে সহায়তার পাশাপাশি ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনে সহায়তা করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার বিশ্ব থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকায় গোপনে তার পারমাণবিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ পায়।

ডিপিআরকেতে যে এই জাতীয় কাজ পরিচালিত হতে পারে সে বিষয়টি স্পষ্ট। কারখানাটিতে বার্ষিক যে বিপুল পরিমাণে হলুদ রঙের ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারবে সেটা যতেষ্ট উদ্বেগের। কারখানাটিতে সার উৎপাদনের পাশাপাশি পারমাণবিক ওয়ারহেডের তৈরিতে এই বিপুল পরিমাণ ইউরোনিয়াম কাজে লাগাতে পারে এমন সম্ভাবনা যতেষ্ট রয়েছে বলে অনুমান কেরির।

কিমের নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি বিকাশের জন্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নিজস্ব প্রযুক্তিতে কোরিয়া প্রয়োজনীয় অস্ত্র উৎপাদন করতে সক্ষম।

এর আগে জানুয়ারিতে কিম প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করেছিলেন বলে উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়। এটি ২০১৭ সাল কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে গত তিন বছরে কিম সরকারের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা বেশ কয়েকবার এটি পরিদর্শন করেছেন। সার কারখানায় তাঁদের এই পরিদর্শন যতেষ্ট তাৎপর্য বহন করে। যদিও কেরির গবেষণাপত্রে এমন প্রমাণ নেই যে, উত্তর কোরিয়া ফার্টিলাইজার প্ল্যান্টটি পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ