পিপিই নেই বলতে বলতে ৫ তলার জানালা দিয়ে মাটিতে; দুর্ঘটনা না মৃত্যুচেষ্টা?

পিপিই নেই বলতে বলতে ৫ তলার জানালা দিয়ে মাটিতে; দুর্ঘটনা না মৃত্যুচেষ্টা?

চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই করোনাভাইরাস কালো থাবা বসিয়েছে। রাশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিত্সার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে দেশটিতে।

সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবের বিষয়টি ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর সময় পাঁচতলার উপর থেকে জানালা দিয়ে পড়ে গেছেন এক নারী ডাক্তার! তবে তিনি পড়ে গেছেন নাকি নিজেই ইচ্ছা করে লাফ দিয়েছেন সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডা. ইলিনা নেপম্ন্যাশচায়া তার হাসপাতালে করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিত্সার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। গত শনিবার তিনি ডাক্তার এবং নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ‘তীব্র ঘাটতি’র ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাচ্ছিলেন ফোন কলের মাধ্যমে। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি পাঁচতলার উপর থেকে পড়ে যান। ওই সময় রাশিয়ার ক্রাসনোয়ারস্ক অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি।

ক্রাসনোয়ারস্ক রিজিওনাল হাসপাতালের প্রধান এই নারী ডাক্তার। তার হাসপাতালের আরো একটি বিল্ডিং করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করার বিরোধিতা করছিলেন। মূলত ডাক্তার ও নার্সদের পিপিইর তীব্র ঘাটতি ও সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলেই তিনি এই বিরোধিতা করছিলেন। সম্ভবত এই পরিস্থিতির হতাশা থেকেই এই কাজ করে থাকতে পারেন তিনি।

বর্তমানে ওই হাসপাতালেই তিনি ভর্তি। বাঁচার জন্য লড়াই করছেন তিনি। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে কথা বলতে রাজি হননি। পাঁচতলার উপর থেকে পড়ে গেছন নাকি নিজেই লাফ দিয়েছেন; সেই বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যেই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

ক্রাসনোয়ারস্ক অঞ্চলের স্থানীয় সরকারের উপপ্রধান আলেক্সি পোডকোরিতোভ বলেন, এই ঘটনায় অনেক কিছুরই ধারণা করা যেতে পারে। তবে তার মধ্যে কিছু বাজে চিন্তা ভাবনা ছিল। তার নিজ কক্ষের জানালা দিয়ে ঝাঁপিয়েও পড়তে পারেন তিনি। এটি হতে পারে। কারণ এখন বসন্তকাল চলে, তার ওপর আবার কিছু চাপ রয়েছে, পরিবারের কিছু সমস্যাও রয়েছে। কিন্তু আসলে কি হয়েছিল তা বলা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।

আন্তর্জাতিক