দু’সপ্তাহের মধ্যে করোনার ‘ভ্যাকসিন’ তৈরি করবেন ব্ল্যাক সাইন্টিস্ট

দু’সপ্তাহের মধ্যে করোনার ‘ভ্যাকসিন’ তৈরি করবেন ব্ল্যাক সাইন্টিস্ট

বিশ্বজুড়ে প্রলয় সৃষ্টি করেছে আণুবীক্ষণিক জীব নভেল করোনারভাইরাস। গুঁড়িয়ে দিচ্ছে মানবজাতির সভ্যতা ও বিজ্ঞানের দম্ভ। কোন ওষুধ নেই, প্রতিষেধক নেই। শুধুই মৃত্যুর অপেক্ষা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন একটা ওষুধ বা ভ্যাকসিন তৈরিতে। এখনও সফলার মুখ দেখেননি। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলের মেহারি মেডিকেল কলেজের একজন কৃষ্ণাঙ্গ বিজ্ঞানী দাবি করেছেন যে, তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ তৈরি করে ফেলবেন যা কভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে পারবে।

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করা এই বিজ্ঞানী ড. ডোনাল্ড অ্যালেন্ডার কয়েক বছর আগে জিকা ভাইরাসের সফল অ্যান্টি-ভাইরাস নিয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, ভাইরাসটি কিভাবে আপনার শরীরে প্রবেশ করে, এটি কোথায় যায় এবং এটি কীভাবে সংক্রামিত হয় সেটা আমি বুঝে ফেলেছি। এখন শুধু ওষুধ তৈরির অপেক্ষা। আশা করি আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে আমি এটা তৈরি করে ফেলবো।

অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের বিকাশ সম্পর্কে বলেছিল, তার লক্ষ্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টি-ভাইরাল ভ্যাকসিন তৈরি করা। তারপরে এটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলিতে পাঠানো হবে এবং যদি সফল হয়, তবে কয়েক মাসের মধ্যে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (এফডিএ) অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হবে।

জিকা ভাইরাসের অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের সাফল্য তাকে আশাবাদী করে তোলে। তিনি নিশ্চিত যে, তার কাজটি কভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যুর হারকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারবে। একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে ১৮ মাস সময় লাগবে, তবে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ মাত্র একবারই ব্যবহার করা হবে।

মেহারির উন্নয়ন সিনিয়র সহযোগী সহ-সভাপতি ড. লিন্ডা উইট বলেছিলেন, ‘আমাদের এখন প্রথম সারিতে কাজের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। মেহেররিয়ানদের জন্য, আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য এটা গর্বের। আমদের ব্ল্যাক সাইন্টিস্ট সম্প্রদায় বলে অভিহিত হরা হয়। তবে এটি এখন উচ্চতর স্তরে। আমাদের আবিষ্কার ও গবেষণাকর্ম তুলে ধরার জন্য আরো দক্ষতা থাকা জরুরি।’

মেহারি মেডিকেল কলেজের সভাপতি ডা. জেমস হিলড্রেথ কয়েক সপ্তাহ ধরে কৃষ্ণাঙ্গ পাড়াগুলিতে প্রাক-শিক্ষামূলক স্ক্রিনিংয়ের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। সংক্রামক রোগের বিজ্ঞানী হওয়ার কারণে হিলড্রেথ জানতেন যে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এবং আফ্রিকান আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত অন্যান্য সমস্যাগুলির মতো বিদ্যমান স্বাস্থ্যের অবস্থাগুলি সংক্রামক করোনভাইরাসটি জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।’

হিলড্রেথ বলেছিলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষণের জন্য প্রি-ইম্পেরটিভ স্ক্রিনিংয়ের দিকে জোর দিচ্ছি, কারণ এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনসাধারণের সামনে আসার উপায় হবে। আপনার যদি পূর্ব-বিদ্যমান অটো-ইমিউন ডিজিজ এবং অন্যান্য বর্ণিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তবে ফলাফলগুলি আরও মারাত্মক হয়। আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সেগুলো বিদ্যমান, এবং রোগের বোঝা অনেক বেশি।’

সূত্র- ব্ল্যাক এন্টারপ্রাইজ।

আন্তর্জাতিক