করোনা সংক্রমণ কমছে রেমডেসিভির ওষুধে, সুখবর দিল শিকাগো হাসপাতাল

করোনা সংক্রমণ কমছে রেমডেসিভির ওষুধে, সুখবর দিল শিকাগো হাসপাতাল

ইবোলার ড্রাগ রেমডেসিভির কভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হতে পারে এমনটা আগেই জানিয়েছিল আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। মার্কিন বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপরে এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের সুফল লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি শিকাগো হাসপাতালের ডাক্তাররা দাবি করেছেন, সংক্রমিত ১২৫ জন রোগীর ওপরে ট্রায়াল করে দেখা হয়েছিল এই ড্রাগ। তাতে আশ্চর্য রেজাল্ট পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কয়েকজন সঙ্কটাপন্ন রোগীর সংক্রমণ মাত্র ছ’দিনেই অনেক কমে গেছে।

শিকাগো ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ক্যাথলিন মুলানে বলেছেন, সুখবর হলো হাসপাতালের বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগীর ওপরে প্রয়োগ করা হয়েছিল এই ড্রাগ। তাদের মধ্যে কয়েকজন সংক্রমণ সারিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকিদের শারীরিক অবস্থাও অনেকটাই স্থিতিশীল।

তবে এখনই এই ড্রাগের সার্বিক প্রয়োগ নিয়ে সবুজ সঙ্কেত দেননি শিকাগোর ডাক্তাররা। মুলানে বলেছেন, কয়েকজন রোগীর ওপরে এই ড্রাগের প্রভাব কার্যকর হয়েছে। বিশেষত সঙ্কটাপন্ন রোগী যারা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে ভুগছিলেন, রেমডেসিভির প্রয়োগের পরে তাদের অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল। তবে আরো বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরেই রেমডেসিভিরকে সার্বিকভাবে করোনা-প্রতিরোধী বলে ছাড়পত্র দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রেমডেসিভির ড্রাগের আবিষ্কর্তা আমেরিকার জিলেড সায়েন্সেস। ২০১০ সালেই এই ড্রাগ তৈরি হয়। ইবোলার প্রতিষেধক হিসেবেই রেমডেসিভিরকে বানানো হয়েছিল। তবে ইবোলা রোগীদের ওপরে এই ড্রাগের প্রভাব তেমন কার্যকর হয়নি।

ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে রেমডেসিভিরের সাফল্যের হারও খুবই কম। কিন্তু সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) ও মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম) সংক্রমণ ঠেকাতে এই ড্রাগ বিশেষভাবে কাজে এসেছিল। যেহেতু বিটা-করোনাভাইরাসেরই পরিবারের সদস্য সার্স-কভ এবং নয়া করোনাভাইরাস অর্থাত্‍ সার্স-কভ-২, তাই বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন কোভিড রোগীদের ওপরেও কাজ করতে পারে রেমডেসিভির।

জিলেড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, রেমডেসিভির নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ। এই ড্রাগের ফেজ-৩ ট্রায়াল হয়ে গেছে। পশুদের ওপর এর কার্যকর রয়েছে। শিকাগো হাসপাতালের ১২৫ জনের ওপরে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় এই অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগের। এদের মধ্যে ১১৩ জনের অবস্থা ছিল সঙ্কটাপন্ন। কয়েকজন রোগীর ওপরে বেশ ভালো ফল দিয়েছে রেমডেসিভির। জিলেড সায়েন্স জানিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালের আরও চারশ জন রোগীর ওপরে এই ড্রাগ প্রয়োগ করা হয়েছে। তার রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়িই সামনে আনা হবে।

করোনা প্রতিরোধী কোনো ভ্যাকসিন বা ড্রাগ যেহেতু এখনো বাজারে আসেনি, তাই পুরনো ড্রাগেরই ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। বেশ কিছু ড্রাগের রাসায়নিক ফর্মুলা বদলেও তার ট্রায়াল চলছে। এমনই একটি ড্রাগ হল রেমডেসিভির।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, রেমডেসিভির ভাইরাসের বৃদ্ধি ও বিস্তার আটকাতে পারে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা সঙ্কটাপন্ন রোগীদের ওপরেও কাজ করতে পারে এই ড্রাগ।

সূত্র: দ্য ওয়াল।

আন্তর্জাতিক