২৭ এপ্রিলের মধ্যেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু, ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন

২৭ এপ্রিলের মধ্যেই চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু, ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) হাসপাতাল স্থাপনের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এক্সপো জোন ও তিনটি হল রুমে দুই হাজার বেডের আইসোলেশন সেন্টারের পাশাপাশি ৭১ বেডের আইসিআইউ ইউনিট থাকবে। আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই হাসপাতলের কাজ শেষ করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার আইসিসিবি’র এক্সপো জোনে হাসপাতাল নির্মাণস্থলে কাজের তদারকি করতে এসে সাংবাদিকদের কথাগুলো বলছিলেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রিডিয়ার জেনারেল উসমান সারোয়ারের সার্বক্ষণিক নেতৃত্বে আমরা এ হাসপাতালের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছি। স্বাস্থ্য প্রকৌশ অধিদপ্তরের ঢাকাস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এ কাজ তদারকি করছে। আমরা আশা করছি আগামী ২০ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয় সকল কাজ সমাপ্ত করতে পারবো। আজকে রাতে ৫০০ বেড এ সেন্টারে ঢুকবে। এভাবে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ করে বেড ডুকবে। চিকিৎসা বেডের পাশাপাশি থাকবে ডাক্তার, নার্স, সার্পোটিং স্টাফদের কেবিন। সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে, যেন ডাক্তার ও নার্স রোগীদের সার্বক্ষণিক মনিটর করতে পারেন। আমরা আশা করছি আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। এছাড়াও তারা আমাদের দিন রাত কাজ করার সুবিধা করে দিয়েছেন।

আইসিসিবি’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল প্রস্তুতের জন্য সব ধরনের মালামাল চলে এসেছে। দিন-রাত বিরামহীন কাজ চলছে। গতকাল বুধবার বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটরসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চলে আচ্ছে। বেড বসানোর কাজও প্রায় শেষ প্রান্তে। আমরা আশা করছি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন সে কাজ আগামী ২২ এপ্রিলের দিকে শেষ করা সম্ভব। তার পরেও বাকি কয়েকটি কাজে দু’একদিন লাগতে পারে। তবে আমরা আশা করছি ২৭ এপ্রিলের আগেই এখানে রোগী সেবা পাবে। আইসিআইউ ৭১টি বেডের আইসিআইউ ইউনিট হবে হল রুমে।
আইসিআইউ’র বেডগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের বাইরে থেকে যে মালামালগুলো আসবে সেগুলো পাইপ লাইনে ঢুকে গেছে, এখন এগুলো বিমানে চলে আসবে। যেখানে হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ রূপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছিল বসুন্ধরার, এখান থেকে বড় ধরনের আয় আসতো। দেশের এ মহামারীতে মানুষ যখন বিপদে পড়েছে তখন বসুন্ধরা গ্রুপ নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগিয়ে এসেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের এক্সপো জোনে তৈরি হচ্ছে হাসপাতালের অবকাঠামো। অবকাঠামো নির্মাণে দিন রাতে বিরামহীনভাবে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছোট ছোট ঘরের মতো করে তৈরি হচ্ছে আইসোলেশন সেন্টার, যাতে একটি করে বেড স্থাপিত হবে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক থাকবেন ডাক্তার ও নার্স। গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে নানামুখী সুবিধার এই কনভেনশন সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে। একদল অবকাঠামো নির্মাণে, আরেকদল বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে, আরেকদল টয়লেট সুবিধা নির্মাণের কাজ করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা। এরই ধারাবাহিকতায় দুই হাজার শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে। এর বাইরে সেখানে হবে ৭১ বেডের আইসিইউ ইউনিট।

বাংলাদেশ