সরকারি ত্রাণ সামগ্রীতে থাকছে শিশুখাদ্যও

সরকারি ত্রাণ সামগ্রীতে থাকছে শিশুখাদ্যও

ভয়াবহ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ হিসেবে চাল ও নগদ টাকার পাশাপাশি এবার শিশুখাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে দুদিন দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এ শিশু খাদ্য বিতরণ করা হবে। এজন্য এরইমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, বর্তমান করোনাভাইরাসের দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগী বিতরণ করা হচ্ছে। এজন্য নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দের পাশাপাশি শিশুখাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন তথা সোমবার ও বৃহস্পতিবার এসব খাদ্য বিতরণ করা হবে।

গত ৯ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহজাহান স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ বরাদ্দ সংক্রান্ত এক নোটিশে জানা যায়, সম্ভাব্য করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় ত্রাণ হিসেবে চাল, নগদ টাকা এবং শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ৬ এপ্রিল আরেক দফা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সূত্র মতে, দুই দফায় ৬৫ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন চাল, ২৫ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার নগদ টাকা এবং শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিশু খাদ্য ক্রয়ের শর্তাবলীতে বলা হয়- বর্ণিত ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর, ২০০৮ সহ সংশ্লিষ্ট সব বিধি-বিধান ও আর্থিক নিয়মাচার যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। জিটুজি পদ্ধতিতে ক্রয়পূর্বক মিল্ক ভিটার উৎপাদিত গুড়োদুধ চলমান ত্রাণ কার্যে ত্রাণসামগ্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া শিশু খাদ্য হিসেবে খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, সুজি, মশুরির ডাল, সাগু, ফর্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইড ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেট ফুড ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিতরণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ বর্ণিত ক্রয় ব্যতীয় অন্য কোন খাতে ব্যয় করা যাবে না।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাশসকগণ আরোপিত শর্তাবলী যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক ছাড়কৃত অর্থে শিশু খাদ্য ক্রয়পূর্বক বিতরণ করবেন এবং নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করবেন। এ ছাড়া চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে মানবিক সহায়তার বিভিন্ন খাতে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বরাদ্দের ব্যয় বিবরণী জরুরি ভিত্তিতে এ মন্ত্রণালয় প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ত্রাণ সামগ্রীতে প্রথমবারের মতো এবার শিশু খাদ্য থাকছে। এজন্য এরইমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব জেলায় দরিদ্রতা ও জনসংখ্যার হার অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশু খাদ্যের তালিকায় মিল্প ভিটাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে দুধের চাহিদা ব্যাপক কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারি ত্রাণে শিশু খাদ্যের তালিকায় মিল্ক ভিটার গুড়ো দুধ রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ