কে এই আয়েশা বেগম?

কে এই আয়েশা বেগম?

একজন আয়েশা বেগম। নানা প্রশ্ন। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি কি বাংলাদেশী নাকি 9ভারতীয়? এ প্রশ্ন নিয়ে গোয়েন্দারা তন্ন তন্ন করে তথ্য খুঁজছেন। তার অনুসারীর সংখ্যা কত? আয়েশা বেগম জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের একজন ‘চিয়ারলিডার’। তার মতো অসংখ্যা চিয়ারলিডার আছে আইএসে। তার কাজ হলো আইএসের জন্য নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। আয়েশা বেগমের এই সব তথ্য ধরা পড়েছে হ্যাকারগোষ্ঠী অ্যানোনিমাসের সাইবার যুদ্ধে। অ্যানোনিমাস প্যারিস হামলার পরে প্রকাশ্যে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সেই যুদ্ধে এরই মধ্যে তারা আইএসের কমপক্ষে ৭০০০ একাউন্ট হ্যাক করেছে। তার মধ্যে রয়েছে এই আয়েশা বেগমের নাম। ভারতের পত্রিকা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান ইন্টেল এজেন্সিস গো আফটার আইএস চিয়ারলিডারস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি লিখেছেন যতীশ যাদব। এতে বলা হয়, আয়েশা বেগমের বসবাস লন্ডনে। আইএসের যে হাজার হাজার চিয়ারলিডারস রয়েছে সামাজিক মিডিয়ায় তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তার বা তাদের কাজ হলো সামাজিক মিডিয়ায় সদস্য সংগ্রহ করা। যেসব ছেলে বা মেয়ে হতাশার মধ্যে আছে, বিপন্ন অবস্থায় আছে অথবা যারা নানা কারণে বিষাদগ্রস্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইএসে ভেড়ানো। এর মাধ্যমে তারা আইএসের সন্ত্রাসী কর্মকা- ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। গোয়েন্দারা বলছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি একজন ভারতীয় অথবা বাংলাদেশী। আইএস বিরোধী এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় সাইবার যুদ্ধে তার পরিচয় প্রকাশ করেছে অ্যানোনিমাস। বলা হচ্ছে, অ্যানোনিমাস যেসব সদস্যের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেছে তাদের অনেকেই নতুন পরিচয়ে এরই মধ্যে সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয় হয়েছে। একই কাজ করেছেন আয়েশা বেগম। আইএসের প্রতি যারা সহানুভূতিশীল বা আইএসের প্রতি যাদের দুর্বলতা আছে তাদের উদ্দেশে এরই মধ্যে পোস্ট দিয়েছেন। তার প্রধান কাজ হলো নতুন নতুন একাউন্টধারী বা নতুন সদস্যদের উদ্দেশে নতুন করে টুইট করা। আয়েশা বেগম এর মধ্য দিয়ে তার জিহাদী কর্মকা- চালিয়ে নিচ্ছেন। আয়েশার মতো আইএসের চিয়ারলিডার বা সংশ্লিষ্ট অন্যদের ধরার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ভারত। তারা আইএসের প্রতি গভীর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করছেন। শুধু আয়েশা বেগম নন, আবু আলী আল হিন্দি ও আবু হুরায়রা আল হিন্দির মতো আইএস সদস্যদের বিষয়েও তথ্য বিনিময় করেছে তারা। ভারতে গোয়েন্দাদের হাতে আটক নিকি জোসেফের মতো আয়েশা বেগমের অনুসারীর তালিকা বিশাল। অস্ট্রেলিয়ায় আইএসের পক্ষে কাজ করেন নিল প্রকাশ ওরফে আবু খালেদ আল ক্যামবোডি। তার দিকে নজর রাখছেন এমন কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে আইএস। তাদের সব গ্রুপ জালের মতো ছড়িয়ে আছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এ গ্রুপের একাউন্ট বা ওয়েবসাইটের বেশির ভাগই যুক্তরাজ্য, মিশর, তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্সভিত্তিক। তিনি আরও বলেন, যখনই একটি একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে নতুন আরও দুই বা ততোধিক একাউন্ট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই অ্যানোনিমাস হ্যাকাররা যেসব তথ্য পেয়েছে তার বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

Featured আন্তর্জাতিক