গম্ভীর কেন এখনো এগারোয় আছে

গম্ভীর কেন এখনো এগারোয় আছে

image_78908_0ম্যাচ দেখতে দেখতে কতগুলো প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরছিল৷ সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার চেষ্টা করলাম৷

১. হারের জন্য কতটা দায়ী গম্ভীর?
উত্তর: পুরোটাই গম্ভীর দায়ী৷ ব্যাটিং তো করতে পারছেই না৷ এ দিন ওর অবদান ডাক-এর থেকে বেশি ১ রান৷ আসলে গম্ভীরের কাছে এখন ১ রানটাও বেশি মনে হচ্ছে৷ এ দিনের ব্যাটিং দেখেই বুঝতে পারছিলাম কী মারাত্মক চাপে রয়েছে৷ বালাজি ক্যাচটা ধরে নিলে তো আগেই আউট হয়ে যায় গম্ভীর৷ যেনতেন প্রকারণে রান চাইছে ও৷ রান তো পেলই না, বলতে বাধ্য হচ্ছি ব্যাটিং অর্ডার বদল করেই গম্ভীর ডোবাল টিমকে৷ ও যেন একটু ভয়ও পাচ্ছে৷ না হলে নিজে না এসে মনীশ পান্ডেকে ওপেন করতে পাঠাল কেন? অল্প টার্গেটের সামনে নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য এ দিন ওপেন করতে আসা উচিত ছিল গম্ভীরেরই৷ কিন্ত্ত ও পালাল৷ তিনে এসে কোনো লাভ হয়নি৷ উল্টে ফর্মে থাকা মনীশকে অনভ্যস্ত জায়গায় পাঠিয়ে আত্মবিশ্বাসটা ভেঙে দিল৷

শুনতাম, মাইক ব্রিয়ারলি শুধু অসাধারণ ক্যাপ্টেন্সির জন্যই টিমে থাকতেন৷ কিন্ত্ত আজকের জমানায় সেটা সম্ভব নয়৷ মানে গম্ভীরের টিমে থাকার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না৷ বোলিংয়ের সময় বা প্রথম এগারো বাছার ক্ষেত্রে গম্ভীরের নেতৃত্ব দেখে ভালো লাগছিল৷ তবে ব্যাটিংয়ের সময় যা হল তাতে যেন সব ভালোই ফিকে হয়ে গেল৷

২. ম্যাচের ভিলেন কে?
উত্তর: ক্রিস লিনের আউটটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল৷ যে উইকেটে স্পিনাররা সাফল্য পাচ্ছে, সেখানে লিন কেন প্যাটেলের মতো একজন স্পিনারকে ছক্কা মারতে গেল? তার চেয়ে বালাজিকে অ্যাটাক করতে পারত৷ লিনকে তবু ম্যাচের ভিলেন বলতে পারছি না৷ সেটা অবশ্যই ইউসুফ পাঠান৷ গম্ভীরকে তুলোধোনা করা হচ্ছে বলে কেউ খেয়ালই করছে না দিনের পর দিন ব্যর্থ হচ্ছে পাঠান৷ আগের বারের আইপিএল থেকেই ওর ব্যাটে রান নেই৷ কেন ব্যাট করতে নামছে, কী ভেবে নামছে, কেউ জানে না৷ এতগুলো ম্যাচ ব্যর্থ হলে তো পাড়ার টিমেও সুযোগ যায় না৷

৩. পাঞ্জাব ব্যাটিংকে কী ভাবে থামাল কেকেআর?
উত্তর: এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ব্যাটিং সাইডকে থামিয়ে দেওয়ায় কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে লেটার মার্কস না দিয়ে পারছি না৷ বিনয় কুমারকে বসিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না৷ ও গত ম্যাচে শেষ ওভারে জিতিয়েছিল৷ কিন্ত্ত কেকেআরের টিম কম্বিনেশন দেখেই বুঝলাম, পাঞ্জাবকে থামানোর জন্য পুরো হোমওয়ার্ক করে নেমেছে৷ ম্যাক্সওয়েল, মিলার আর বেইলিকে শুধু পেস বোলিং দিয়ে থামানো যাবে না, এটা ভালো ভাবেই বুঝেছিল কেকেআর৷ ওদের জন্য দরকার ছিল টপ স্পিন, গুগলির মতো অস্ত্রগুলো৷ নিজেদের পরিকল্পনায় পুরো সফল ট্রেভর বেলিস অ্যান্ড কোং৷ কিন্ত্ত ব্যাটসম্যানরা সব শেষ করে দিল৷

৪. ম্যাক্সওয়েল কেন ব্যর্থ?
উত্তর: এই ম্যাচটায় প্রধান আকর্ষণ ছিল ম্যাক্সওয়েল৷ এদিন ওর ব্যর্থতার জন্য নিজেই দায়ী৷ বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়েই মরল ম্যাক্স৷ যখন আউট হল, তখন স্কোরবোর্ডে পাঞ্জাব ৭ ওভারে ৫০ প্লাস রান তুলে ফেলেছে৷ মর্নি মর্কেলের ওভারটা দেখে খেলতেই পারত ও৷ কিন্ত্ত ঝুঁকি নিয়ে খেলতে গেল৷ এটাকেই বলে কুখ্যাত আত্মবিশ্বাস৷ সাঙ্ঘাতিক ভালো ফর্মে আছে বলেই ম্যাক্সওয়েলের এ দিনের ব্যাটিং দেখে ওকে দায়িত্বজ্ঞান বলতে বাধ্য হচ্ছি৷

৫. বীরুর কী হলো?
উত্তর: এদিন পাঞ্জাব ব্যাটিংয়ের সেরা মুখ শেবাগ৷ কিন্ত্ত বিশ্বাস করুন, এই বীরুকে দেখতে চাই না৷ যে শেবাগকে সবাই চেনে এখন ও তার তিন ভাগের এক ভাগ৷ এ দিন শেবাগ যে ব্যাটিংটা করেছে তাতে পাঞ্জাবের রান ভদ্রস্থ জায়গায় গেল ঠিকই, কিন্ত্ত পুরোনো শেবাগের সঙ্গে চশমা পড়া পাঞ্জাবের ওপেনারের কোনো মিল আমি খুঁজে পেলাম না৷

৬. পাঞ্জাবের এক্স ফ্যাক্টর কী?
উত্তর: আমি সবার আগে বলব সঞ্জয় বাঙ্গারের নাম৷ এ বার বাঙ্গারের পরামর্শে টিম বানিয়েছে প্রীতি৷ দারুণ ব্যালান্সড৷ ব্যাটিং ব্রিগেডে গভীরতা তো আছেই, এ দিন ভারতীয় বোলারদের দেখেও ভালো লাগল৷ জনসনকে ছাপিয়ে সন্দীপ শর্মা-অক্ষর প্যাটেলের মতো দেশি ছেলেরা ম্যাচ জেতাল দেখে দারুণ লাগছে৷ পাঞ্জাবের সবই ভালো, তবু সামান্য খুঁত রয়ে গেল৷ ঋদ্ধিকে বলব, ক্রশ ব্যাটে খেলাটা একটু কমা৷

খেলাধূলা শীর্ষ খবর