পরীক্ষাগার ছাড়া লবণ মিলের লাইসেন্স নবায়ন হবে না: শিল্পমন্ত্রী

পরীক্ষাগার ছাড়া লবণ মিলের লাইসেন্স নবায়ন হবে না: শিল্পমন্ত্রী

মান পরীক্ষাগার না থাকলে লবণ মিলের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে বিসিকের নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

শনিবার রূপসী বাংলা হোটেলে ‘আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ উৎপাদনে মান নিয়ন্ত্রণ ও মান নিশ্চিত প্রযুক্তির প্রয়োগ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা ৮০ ভাগ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে।এর মধ্যে পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে শতকরা ৫২ভাগ পরিবার। ২০১৬ সালের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ পরিবারকে  পরিমিত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণের আওতায় আনার কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকমান অনুসরণ করে লবণে আয়োডিনের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে একটি ম্যান্যুয়াল প্রণয়ন করা হচ্ছে। দেশে ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী সকল মিল বাধ্যতামূলকভাবে এ ম্যানুয়াল অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনে বাংলাদেশ এরইমধ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বর্তমানে মোট জাতীয় লবণ চাহিদার শতকরা ৯৫ ভাগ দেশিয় উৎপাদন থেকে যোগান দেওয়া হচ্ছে। দেশের ৪৫ হাজার পরিবার সরাসরি লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত। চাষিদের মূল্য সহায়তা দিতে মহাজোট সরকার জাতীয় লবণ নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় লবণ মিল মালিকদেরকেও সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

বিসিক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মুনসুর আলী শিকদার, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভ্ড নিউট্রিশন এর বাংলাদেশ ব্যবস্থাপক বসন্ত কুমার কর , সার্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ প্রকল্পের পরিচালক মো: আবু তাহের খান বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুষ্টি ঘাটতি বিশ্বব্যাপী একটি মারাত্মক সমস্যা।বাংলাদেশে এখনো আয়োডিনের স্বল্পতাজনিত পুষ্টি ঘাটতি সমস্যা প্রকট। দেশের গর্ভবতী নারী ও শিশুরা এ সমস্যার মারাত্মক শিকার। তারা এর সমাধানে লবণে পরিমিত পরিমাণে আয়োডিন মিশ্রণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেন। এ লক্ষ্যে তারা দেশের সকল মিলে লবণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আয়োডিনের মান নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, লবণে পরিমিত পরিমাণ আয়োডিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে এরইমধ্যে বিসিকের আয়োডিন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ল্যাবরেটরিতে লবণ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের প্রয়োজনীয় কারগিরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ছোট ছোট অনেক লবণ মিল আয়োডিনের মান পরীক্ষার জন্য নিজস্ব পরীক্ষাগার স্থাপন করেছে। যেসব লবণ মিলে আয়োডিনের মান পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয় নি, সেগুলোর লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্মশালায় তথ্য প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, দু’দিন ব্যাপী আয়োজিত এ জাতীয় কর্মশালায় দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ, মান বিশেষজ্ঞ, কারিগরি পরামর্শক, টেকনিশিয়ান ও লবণ মিল মালিকরা অংশ নিচ্ছেন।

অন্যান্য অর্থ বাণিজ্য জেলা সংবাদ বাংলাদেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি রাজনীতি শীর্ষ খবর