‘ফর্মুলা’ একটাই, তা তত্ত্বাবধায়ক: খালেদা

‘ফর্মুলা’ একটাই, তা তত্ত্বাবধায়ক: খালেদা

সরকারের আলোচনার প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, সেই আলোচনা হতে পারে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা নিয়ে।

নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকার আলোচনায় আগ্রহী জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্যের পরদিন মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের ফর্মুলা চলবে না। তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।”

বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের ফর্মুলা পরিষ্কার। আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে।

“ওই সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন। নির্দলীয় সরকারের প্রধান ও তার ১০ জন উপদেষ্টা নিরপেক্ষ ব্যক্তি হতে হবে।”

সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “এই লক্ষ্যে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় সরকারের বিল নিয়ে আসুন। প্রয়োজনে আমরা সবাই আলোচনা করে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে পারি।”

সৈয়দ আশরাফ সোমবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিএনপির সাড়া পেলে আগামী নির্বাচন নিয়ে শিগগিরই আলোচনায় বসতে চান তারা।

“সমাধানের একমাত্র পথ আলোচনা, বিকল্প কোনো পথ নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনা যেন শুরু হয়। যত তাড়াতাড়ি এর সুরাহা হয়, গণতন্ত্র ও জাতির জন্য তা তত মঙ্গলজনক।”

বিরোধী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক।

এই বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “ভেতরে-ভেতরে, তলে-তলে আলোচনায় আমরা বিশ্বাসী নই। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার এরকম কথা বলছে। আমরা মনে করি, তলে-তলে আলোচনা করা একটি ষড়যন্ত্র।”

১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল নিনিয়ান স্টেফানের মধ্যস্থতায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার আলোচনার কথা তুলে ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যা কিছু আলোচনা হবে, তা প্রকাশ্যে হতে হবে।”

বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের পর এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তবে এভাবে নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ’ হবে না দাবি করে নির্বাচন বর্জনের হুমকি রয়েছে বিএনপির।

খালেদা জিয়া বলেন, “ক্ষমতাসীনরা বুঝতে পেরেছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের করুণ পরিণতি হবে। এজন্য তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।

“দেশের জনগণ ও আমরা বিশ্বাস করি, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সেজন্যই নির্দলীয় সরকারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এই দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কবুতর উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ছাত্র সমাবেশ উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া।

অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন কাজী আসাদুজ্জামান, এনামুল করীম, শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবউন নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও আমীরুল ইসলাম খান আলিম।

খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ছাত্রদলকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “প্রকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ছাত্রদল করতে হবে। তোমাদের প্রথম কাজ হবে, লেখাপড়া করা। হাতে বই-খাতা-কলম থাকা চাই।”

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হাতে বই-খাতার বদলে এখন বল্লম, কিরিচ, দা, কুড়াল, অস্ত্র দেখা যায়।

“তারা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী ছাত্র সংগঠনকে ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছে। ভর্তি বাণিজ্য করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপমান করছে।”

সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “তারা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র করছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

“বিশ্বজিতকে তাদের ক্যাডারা কীভাবে হত্যা করেছে! আমাদের নেতা ইলিয়াস আলীসহ অনেককে গুম করে ফেলা হয়েছে। এ সরকারের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়।”

সরকাবিরোধী আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ক্ষমতায় গেলে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন তিনি।

“এ দেশকে সকলে মিলে এগিয়ে নিতে হবে। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা দেশপ্রেমিক, তাদের নিয়েও আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা ছাড়াও ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান প্রমুখ।

অন্যান্য বাংলাদেশ রাজনীতি শীর্ষ খবর