জয়ের সুবাস পাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা

জয়ের সুবাস পাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা

ওয়ালটন ১৪তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের খেলায় জয়ের সুবাস পাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগ।

ঢাকা বনাম রংপুর

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ঢাকা ও রংপুর বিভাগের মধ্যকার খেলায় রোববার তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। সোমবার জয়ের জন্য মাত্র ৭৮ রান দরকার ঢাকার। হাতে আছে ৯ উইকেট।

এর আগে প্রথম দিন টসে জিতে ব্যাট নেওয়া রংপুরকে প্রথম ইনিংসে ২৮৩ রানে অলআউট করে ঢাকা। বিপরীতে প্রথম ইনিংসে ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে ঢাকা বিভাগ।

৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি রান যোগ করতে পারে নি রংপুর। মাত্র ১৫৩ রানে অলআউট হয় রংপুর। ফলে ঢাকার জন্য জয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ৮২ রান।

রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংসে ধ্বস নামান মোশারফ হোসেন ও শরিফ। মোশারফ ৫০ রানে ৪টি এবং শরিফ ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন। ৩২ রানে ২টি উইকেট পান নাজমুল অপু।

তবে ৮২ রানের সহজ টার্গেটও কিছুটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ঢাকাকে। কারণ দিনের শেষভাগে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ঢাকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আবদুল মজিদকে তুলে নিয়েছেন প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া রংপুরের বোলার সোহারোওয়ার্দি শুভ।

চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহী

সাভারের বিকেএসপিতে রাজশাহীর বিপক্ষে চট্টগ্রামের জয়টা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সোমবার চতুর্থ দিনে রাজশাহীর বাকি ৪ উইকেট তুলে নিতে হবে চট্টগ্রামকে।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ২৩৯ রান। জবাবে মাহবুবুল করিমের প্রথম সেঞ্চুরির সুবাদে ৩ উইকেটে ২৯৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল চট্টগ্রাম। রোববার তৃতীয় দিনে বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে আরও ২১১ রান যোগ করে চট্টগ্রাম।

ফলে প্রথম ইনিংসে চট্টগ্রামের মোট স্কোর দাঁড়ায় ৫১০ রানের। চট্টগ্রামের এই বড় স্কোর আসে তৃতীয় দিনে দুই শতকের সুবাদে।

প্রথম রাউন্ডের শতকের পর আজ চতুর্থ রাউন্ডে আবার শতক পেয়েছেন মমিনুল হক। ১৫৬ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১১৪ রান করেছেন তিনি। এছাড়াও শতক পেয়েছেন ফয়সাল হোসেন। ১৯০ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ রান করেন তিনি।

রাজশাহীর পক্ষে ফরহাদ হোসেন ১৪৩ রানে ৬টি এবং সাকলায়েন সজীব ১২৮ রানে ৩ উইকেট নেন।

২৭১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রোববার মাত্র ৬৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী। মাত্র ৪ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ২০৭ রানে পিছিয়ে থেকে পরাজয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজশাহী।

চট্টগ্রামের পক্ষে ২১ রানে ৩ উইকেট নেন ইউনুস। ৬ রানে ২ উইকেট পান নূর হোসেন।

সিলেট বনাম বরিশাল

বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়ামে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ছে স্বাগতিকরা। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে সোমবার তাদেরকে পাড়ি দিতে হবে ২৩৪ রানের পথ।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট নিয়ে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রান তোলে সিলেট। জবাবে বরিশাল অলআউট হয় মাত্র ১৩১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৯ রান তুলে স্বাগতিকদের ৩১৫ রানের বড় টার্গেট দিতে সমর্থ হয় সিলেট।

৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে রোববার শেষ সেশনে ৮১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বরিশাল। ২৮ রানে ফজলে রাব্বি ও ৪ রানে ফরিদউদ্দীন মাসুদ উইকেটে আছেন।

বরিশালের ২ উইকেট নেন নাবিল সামাদ, ১টি উইকেট পান প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে বরিশালের ধ্বস নামানো এনামুল হক জুনিয়র।

খুলনা বনাম ঢাকা মহানগর

সিলেট স্টেডিয়ামে ঢাকা মহানগরের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছে টানা তিন ম্যাচ জেতা খুলনা বিভাগ। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে খুলনা থেকে এখানো ৩৮২ রানে পিছিয়ে আছে ঢাকা মহানগর।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে মোঃ মিথুনের শতকের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৩৫৫ রান তুলেছিল খুলনা। জবাবে ঢাকা মহানগর প্রথম ইনিংসে তোলে ৩২০ রান।

রোববার তৃতীয় দিনে ৯ উইকেটে ৩৬১ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা বিভাগ। ফলে ঢাকা মহানগরের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৯৭ রানের।

দ্বিতীয় ইনিংসে শতকের কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হন খুলনার দুই ব্যাটসম্যান মোঃ মিথুন ও জিয়াউর রহমান। প্রথম ইনিংসে শতক হাঁকানো খুলনার অধিনায়ক মিথুন করেন ৯৫ রান। আর জিয়া আউট হন ৯২ রানে।

৩৯৭ রানের জয়ের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪ রান তুলতেই প্রথম উইকেট হারিয়েছে ঢাকা মহানগর। ১৩ রান নিয়ে আসিফ আহমেদ ও শূন্য রানে আরাফাত সানি উইকেটে আছেন।

খেলাধূলা