জামায়াত-শিবির বিরোধী আন্দোলনে কর্মিদের মাঠে পাচ্ছেনা আওয়ামী লীগ

অভ্যন্তরীর কোন্দল এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন সমূহের সাথে জেলা  সভাপতির অবনতিশীল সম্পর্কের কারনে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে পারছেনা বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগ। কেন্দ্র থেকে কঠোর আন্দোলনের নির্দেশ এলেও কর্মি সংকটে বড় কোন শো-ডাউন করতে পারছেনা তারা। সেই সাথে জামায়াত-শিবিরের অফিস ভাংচুরের পর থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মিদের দিন কাটছে চরম আতংকে। ফলে রাজপথে এখনন পর্যন্ত শক্তি প্রদর্শনে ব্যর্থ সরকারি দলের নেতাকর্মিরা।
বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কমিটিতে নিজের পছন্দের লোকদের জায়গা দিয়েছেন অভিযোগ তুলে দলের একটি অংশ দীর্ঘ দিন যাবত আন্দোলন করে আসছে। তারা কেন্দ্রে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা সভাপতির অপসারন এবং তার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন। চলতি বছরের শুরুতে জেলার ৩টি উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং গাবতলী, শাজাহানপুরসহ আরও কয়েকটি উপজেলা কমিটির ভিন্ন মতের কয়েক জন নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেন জেলা সভাপতি। ফলে দীর্ঘ দিনের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। পদহারা নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে জেলা সভাপতির অসাংগঠনিক আচরণের প্রতিবাদ এবং তার অপসারন দাবী করেন। এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা সাধারন সম্পাদক ও আহ্বায়কের পক্ষের নেতাকর্মিদের মারপিটের ঘটনায় এক পক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সদর উপজেলা আলীগের ভেঙ্গে দেয়া কমিটির যুগ্মসম্পাদক কাওছার আলী খোকনকে মারপিট করেন। এসময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা মমতাজ উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় আওয়ামীলীগের একাংশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের জরুরি সভায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জেলা সভাপতির অপসারন দাবী করে পত্রপত্রিকায় একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এ্যাড. রেজাউল করিম মন্টু, আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা টিএম মুসা পেস্তা, আলীগ নেত্রী ও সাবেক এমপি কামরুন্নাহার পুতুল, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা, সদর উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. গোলাম রব্বানী খান রোমান প্রমুখ। এ ঘটনায় জেলা আলীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন এবং সদর উপজেলা আলীগের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান সফিকসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে সদর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে সদর উপজেলা আলীগের যুগ্মসম্পাদক কাওছার আলী খোকন অভিযোগ করেছেন, জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করেছেন। এতে তার ডান কানে মারাত্মক জখম হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়। এসময় মমতাজ উদ্দিনের সমর্থকরা তার গলা থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইনটি এসময় ছিনতাই হয় বলে  তিনি অভিযোগ করেছেন।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই দিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কেউ এধরনের অভিযোগ করলে তা সম্পুর্ন অসত্য ও ভিত্তিহীন। দলের কর্য্যক্রম সাভাবিক ভাবে চলছে। এব্যাপারে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন এজাহার দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এবিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা বলেন, জেলা সভাপতির নেতৃত্বে কর্মিদের সামনে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্মসম্পাদক কাওছার আলীকে মারপিটের ঘটনা আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। কর্মিদের সামনে নেতাদের সাথে এমন আচরণ স্বাভাবিক কারনে আন্দোলন কর্মসূচির প্রতি নিরুৎসাহিত করবে।

রাজনীতি