খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষক এবিএসএম ওসমান গনির বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রীর পরিবার।

শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন ওসমানের স্ত্রী দিলরুবা সুলতানার বড় ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক জিয়াউল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে ওসমানের পরিবার আমার ছোট বোনের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু করে। বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু সেও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।”

“টাকা না দিলে বড় ধরনের কিছু ঘটতে পারে বলেও হুমকি দেয় সে”, বলেন জিয়াউল হক।

তিনি জানান, ২০১১ সালের ৮ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালীর বদিউল আলমের ছেলে এবিএসএম ওসমান গনির সঙ্গে তার ছোট বোন দিলরুবার বিয়ে হয়। ওই সময় তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা ছুটি নিয়ে এ মুহূর্তে তিনি নরওয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।

জিয়াউল হক বলেন, “বিয়ের ১০ দিন পরই আমার বোনের স্বামী নরওয়েতে পাড়ি জমান। কিছু দিনের মধ্যেই দেশে ফিরে আমার বোনকেও সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা। এজন্য পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্রও তৈরি করেছিল ওসমান। কিন্তু ওসমান গনি আর আসেননি দেশে।”

জিয়াউলের অভিযোগ, তার বোনের স্বামী নরওয়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন দিলরুবার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। প্রথমে পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে না জানালেও অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে সে বিষয়টি তাকে জানায়।

“আমি বিষয়টি ভগ্নিপতির সঙ্গে ইমেইলসহ বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। ১০ লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করে বলে, টাকা না দিলে বড় ধরনের সমস্যা হবে।”

“বোনের সুখের কথা চিন্তা করে ৬৬ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছি। এরই মধ্যে আমার বোন এক ছেলের মা হন। বাবা হিসাবেও ভগ্নিপতি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি, এমনকি কোনো যোগাযোগও করেনি”, বলেন জিয়াউল।CTG Teacher

জিয়াউল বলেন, “এরপর দীর্ঘ দেড় বছর পর ২ অক্টোবর দিলরুবার স্বামী ওসমান গনি দেশে ফেরেন। ১৬ অক্টোবর রাতে ফের যৌতুকের টাকার জন্য পরিবারের লোকজন নিয়ে আমার বোনকে চাপ দেন। টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে, তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর ঘরে আটকে রাখে তাকে।”

“পরদিন সকালে ঘর থেকে শিশুপুত্রসহ আমার বোনকে বের করে দেয়। পরে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আমার বাসায় নিয়ে আসি।”

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছে বোনের নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে জিয়াউল হক বলেন, “পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। পরে কোনো উপায় না দেখে গতকাল (বৃহস্পতিবার) খুলশী থানায় আমার বোন বাদী হয়ে একটি মামলা (নম্বর-২১/৩৮১) দায়ের করেছেন।”

তবে মামলার পর থেকে বোনের স্বামীর আত্মীয় স্বজনরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জিয়াউল হক জানান, ওসমান গনি শনিবার (২১ অক্টোবর রাত ১২টা) নরওয়ে ফিরে যেতে পারেন। বোনের সুবিচারের স্বার্থে তার দেশত্যাগের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক।

ওসমান গনি এর আগে আরো দু’টি বিয়ে করে একই কারণে তালাক দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন জিয়াউল হক।

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার দিলরুবা সুলতানা, তার ছয় মাস বয়সের ছেলে, তার মা সিরাজ নূর এবং ভাই রেজাউল হক উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এবিএসএম ওসমান গনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ