ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

ভোলার মনপুরা, নোয়াখালীর হাতিয়া, কোম্পানিগঞ্জ ও সুবর্ণচর, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও মীররসরাই এবং কক্সবাজারের উখিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

সর্বশেষ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের মেঘনার হাইলার চর ও চরনিজামের উত্তর সাগুছিয়া থেকে আরো ৪ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সনাক্ত করা গেছে। চরনিজামের উত্তর সাগুছিয়া থেকে উদ্ধার করা ওই নিহত জেলের নাম বাহাউদ্দিন (৪২) ।

বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে বিস্তীর্ণ উপকূলে সংঘটিত এ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে ঘর, দেয়াল ও গাছচাপা পড়ে এবং নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মারা যান অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষ। এখনো বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ রয়েছেন আরো অসংখ্য জেলে ও অন্যরা।

শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার করা ওই ৩৯টি লাশের মধ্যে শনাক্ত করা গেছে ৩৩ জনের নাম-পরিচয়।

নিহতদের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৮ জন, সুবর্ণচরে ৬ জন ও কোম্পানিগঞ্জে ৪ জন, ভোলার মনপুরায় ৮ জন ও চরফ্যাশনে ৮ জন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৩ জন ও মীরসরাইয়ে ১ জন এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ১ জন রয়েছেন।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিহতরা হলেন- বুড়িরচরে খুকী আক্তার (৪), জাহাজমারায় সীমা আক্তার (১২), মজনা খাতুন (৪৫) ও মামুন উদ্দিন (৮), তমজুদ্দিতে ব্রজলাল মাঝি (৬০), চরকিংয়ে রাজশ্রী জলদাস (৬০) ও সুমাইয়া আক্তার (২) এবং নলচিরায় আরিফ (১০)। ৪০ জনেরও বেশি জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

সুবর্ণচরে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরকনকে নুরজাহান বেগম (৬০), শারমীন (১১), চর তোরাব আলীর মোঃ মধু (৩৫), চর আলাউদ্দিনের মোঃ সোহাগ (৩০), মোঃ খবির (৩৩) এবং চর উরিয়ার নুরনবী (৩৩)।

কোম্পানিগঞ্জের বামনীয়া নদীর সন্দ্বীপ চ্যানেলে মাছ ধরার ২০টি ট্রলার ডুবে যায়। নদীর জোয়ারের তোড়ে ভেসে মারা গছেন ৪ জেলে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুবর্ণচর এলাকায় বামনীয়া নদী থেকে স্থানীয় লোকজন তাদের লাশ উদ্ধার করে। তারা হচ্ছেন-নুর ইসলাম (৫০), আমির হোসেন (৩৬), বাবুল (২২) ও রিয়াজ উদ্দিন (২৫)। এছাড়া সুমন, জসিম, সায়েদল হক, মমিন উল্যাহ, আহসান উল্যাহসহ ১০ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে মাছ ধরার ট্রলার মালিকেরা জানান।

শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত বুধবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় মনপুরায় উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। নিহতদের মধ্যে মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিপাড় গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মো. রাজিব (২২) ও একই ইউনিয়নের কালুগাজী তালুক গ্রামের আনিসুল হকের ছেলে আমির হোসেন (৩৫), মনপুরার আব্দুল খালেক ও শাহে আলম  এবং চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শাকিলের (১৪) পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। বাকি ৩ জনের নাম-পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।

মনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘বুধবারের ঘূর্ণিঝড়ে আমার ইউনিয়নের ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন- মো. মনির (২৩), প্রকাশ চন্দ্র দাস (১৭) ও নূরুন্নবী (২৮)।’’ মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা অহিদুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে এখনো ১২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

চরফ্যাশনে নিহতরা হচ্ছেন, জোবায়ের হোসেন (১২), রাসেল, আমীর রাঢ়ি ও আমেনা বেগম (৩০) বাহাউদ্দিন (৪২)। এখানকার মেঘনায় উদ্ধার করা ৩ জেলের লাশের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়লে এতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান দুই মহিলা। গাছচাপা পড়ার দু’টি ঘটনায় মারা যান সন্তোষপুর ইউনিয়নে খোদেজা বেগম (৬৫) এবং গাছুয়া ইউনিয়নে আনোয়ার বেগম (৩০)। এছাড়া সরাসরি গাছের নিচে চাপা পড়ে হারামিয়া ইউনিয়নে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ প্রাণ হারান।

মীরসরাইয়ের কিসমত জাফরাবাদ এলাকায় শামসুল হক নামে আরও এক ব্যক্তি ঘরের চাপায় মারা যান। এখানেও প্রচণ্ড ঝড়ে বিশাল গাছ তার ঘরের ওপর এসে পড়ে।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালির জুমেরছড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে ঝড়ের সময় দেয়ালে চাপা পড়ে মোঃ আবুল নামের এক শিশু মারা যায়।

বাংলাদেশ