সোমবার রামু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার রামু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুরের আটদিন পর রামু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার পৌঁছাবেন বলে তার প্রটোকল কর্মকর্তা শেখ আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে বলা হয়েছে।

জানাগেছে, কক্সবাজারের রামুতে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ মন্দির এবং বসত বাড়ি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে বেলা ১১ টায় কক্সবাজার পৌঁছবেন। রামুতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ ও অনুদানের চেক বিতরণ করবেন। দুপুর ১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে ফিরবেন। কক্সবাজারে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করবেন। বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও বিএনপি’র তদন্ত কমিটি রামু আসছেন। ড. মিজানুর রহমান রামু উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন, স্থানীয় জনসাধারন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করবেন। বিএনপির তদন্ত কমিটির আহবায়ক ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক মন্ত্রী এড. গৌতম চক্রবর্তী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া।

ইতিমধ্যে বিএনপি’র প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কক্সবাজারের রামুতে সাম্প্র্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা তদন্তে গঠিত বিভাগীয় তদন্ত দল ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছে।

বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা রামুতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির, বসতবাড়ি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাদের কাজ শুরু করেন। এ সময় তারা একটি হাতবোমার খোসা, সিমেন্টের তৈরি ব্লক, পোড়ামাটিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

তদন্ত দলের প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে চার উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রামুর মেরং রোয়ার সীমাবিহার, উত্তর মিঠাছড়ির বনবিহার, শ্রীকূল মৈত্রীবিহার, লালসিং, সাদাসিং, বড়কিয়াং এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধবসতি পরিদর্শন করেন।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত তদন্ত দলের সদস্যরা এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকালে সীমাবিহারে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন তারা।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, বান্দরবানের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রউফ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার।

ফেসবুকে কোরআন অবমাননার অভিযোগে শনিবার রাতে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর চালায় ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা। রাতভর হামলায় সাতটি বৌদ্ধ মন্দির, অন্তত ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পরদিন চট্টগ্রামের পটিয়া এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে নতুন করে বৌদ্ধ বসতিতে হামলা হয়।

কক্সবাজারের রামুর ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। বাংলাদেশের কক্সবাজারের রামুর ঘটনা শ্রীলঙ্কান সংবাদপত্রে প্রকাশের পর থেকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারই অংশ হিসেবে এই হামলা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও করে একদল উত্তেজিত লোক।  এসময় পানির বোতল ও ঢিল ছুড়ে দূতাবাসের জানালার কাচ ভেঙ্গে ফেলে তারা।

বাংলাদেশ