শিরোপার কাছে শ্রীলঙ্কা

শিরোপার কাছে শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা: ১৩৯/৬ (২০ ওভার)
পাকিস্তান: ১২৩/৭ (২০ ওভার)
ফল: শ্রীলঙ্কা ১৬ রানে জয়ী

ইনিংস বিরতিতে সিংহলিজ ভাষায় একটি গান পরিবেশিত হলো, অর্থ ‘জেগে ওঠো শ্রীলঙ্কা’। ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে এই গান। ক্রিকেটাররা জেগে উঠলেন এবং সেমিফাইনাল জিতলেন।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেভারিট যে শ্রীলঙ্কা এতে কোন সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আগে স্বীকার না করলেও এখন করবে। ১৩৯ রানের পুঁজি নিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ১৬ রানে।

পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ বিশ্বকাপের এই কয়টা দিন খুব গর্ব করতেন তার দলের বোলিং নিয়ে। সাঈদ আজমল, উমর গুলের প্রসংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সামনে হাফিজের কোন ঝাড়িঝুরি টেকেনি। অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলে শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনাল জিতেছে। ৭ অক্টোবরের ফাইনালে খেলবে সিংহলিজরা।

মাহেলা জয়াবর্ধনের সামনে বুধবার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন তার দেশের একজন সাংবাদিক, প্রেমাদাসায় কোন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতেনি শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তার কোন নেতিবাচক প্রভাব থাকবে কি না? লঙ্কান দলপতি জানিয়েছিলেন, সেটা ছিলো ভিন্ন দল এবং অন্য প্রেক্ষাপট। এই দলটি উজ্জীবিত, ভালো ক্রিকেট খেলছে। অতীত নিয়ে ভাবছে না। অধিনায়কের কথা ঠিক হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতলেও শ্রীলঙ্কার মতো দাপুটে ক্রিকেট খেলেনি পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা শীর্ষ আটের ‘এ’ গ্রুপের সবগুলো ম্যাচ জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিলো দুর্বার। সেমিফাইনালে তারই প্রতিফলন দেখেছেন দর্শকরা।

টসে জিতে আগে ব্যাটিং নিয়েছিলেন মাহেলা। অধিনায়কের ৪২, তিলকারত্নে দিলশানের ৩৫, কুমার সাঙ্গাকারার ১৮, অজন্তা মেন্ডিসের ১৫, থিসারা পেরেরার ১১, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ১০ ও অতিরিক্ত ৮ রান নিয়ে শ্রীলঙ্কা চার উইকেটে করে ১৩৯ রান।

জবাব দিতে এসে বড় জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান। আসলে তাদেরকে সুযোগটা দেননি ম্যাথুস, রঙ্গনা হেরাথ, মেন্ডিস। ম্যাথুস এবং মেন্ডিস দুটি করে আর হেরাথ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। মালিঙ্গা উইকেট না পেলেও রান চেক দিয়েছেন।

পাকিস্তানের ওপেনার হাফিজের ব্যাট থেকে এসেছে ৪২ রান। ইমরান নাজির ২০ ও উমর আকমল ২৯ রান করেছেন। বাকিগুলো না বললেও চলে।

গত তিন বিশ্বকাপের দুবার ফাইনাল খেলেছে পাকিস্তান। ২০০৭ সালে প্রথম আসলে ভারতের কাছে হারলেও ২০০৯ সালের দ্বিতীয় আসরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। শ্রীলঙ্কা বাগে পেয়ে আগের হারের প্রতিশোধ নিলো। এবারও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলো পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে। এবার তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পালা।

খেলাধূলা