কক্সবাজারে ৮শ জনের বিরুদ্ধে ১৩ মামলা: গ্রেফতার ১১৮

কক্সবাজারে ৮শ জনের বিরুদ্ধে ১৩ মামলা: গ্রেফতার ১১৮

কক্সবাজারে বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা-উপজেলায় ১৩টি মামলা হয়েছে।

এ সব মামলায় ৮শ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, এ সব মামলায় মোট ১শ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জেলায় ১৩টি মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন, ভাঙচুর, লুটপাট, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রামু থানায় ৬টি, উখিয়া থানায় ৪টি, টেকনাফ থানায় ২টি, কক্সবাজার সদর থানায় ১টি মামলা হয়েছে।

পুরো জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী টহল জোরদার রয়েছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, মোট ১৩টি মামলায় ২শ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় রয়েছেন আরও ৬শ জন।

তবে এসব মামলার আসামিদের নাম বলতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে, এসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলায় ১শ ১৮ জনকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে রামু উপজেলায় ১৩ জন, টেকনাফ উপজেলায় ২৩ জন, উখিয়া উপজেলায় ৩১ জন, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩২ জন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার কোথাও আর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তবে রামু ছাড়াও উখিয়া, টেকনাফ উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির বিশেষ টিম টহল জোরদার করা হয়েছে।

রোববার মন্দিরে আগুন, ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, উখিয়ায় রোববার দিনগত রাত ১২ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিত শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

টেকনাফ থানা পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, হোয়াইক্যং জোয়ারীখোলা গ্রামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জামায়াত নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারীকে প্রধান আসামি করে ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।

সংহিসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) মিজবাহ উদ্দিন খাঁন জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল সহকারে বৌদ্ধ মন্দিরের দিকে যাওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের ওপরও হামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ১৮ জনকে আটক করেছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হবে।

এছাড়া রামু উপজেলায় ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সোমবার ভোর পর্যন্ত ৮ জনকে এবং সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উত্তেজনাকর লিফলেট বিতরণকালে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। রামুর নিকটবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে আটক হয়েছেন ৩২ জন।

এদিকে, দায়ের করা মামলায় আসামিদের নাম জানা না গেলেও কক্সবাজার সদর রামু আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলকে রামুতে আসামি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে কক্সবাজার সদর রামু আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নাকচ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এসময় তিনি মামলায় আসামি করা এবং গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ