সুপার ওভারে জয়ী শ্রীলঙ্কা,ইংল্যান্ডকে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সুপার ওভারে জয়ী শ্রীলঙ্কা,ইংল্যান্ডকে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শীর্ষ আটের খেলায় জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুপার ওভারে স্বাগতিকরা হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।

নিউজিল্যান্ড: ১৭৪/৭ (ওভার ২০)
শ্রীলঙ্কা: ১৭৪/৬ (ওভার ২০)
ফল: সুপার ওভারে জয়ী শ্রীলঙ্কা

পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক রস টেলর। ব্যাট করতে নেমে দলের ৫৭ রানের মধ্যে প্রথম উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে ক্যাচ আউট হন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গুপটিল। সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে ৩৮ রান করেন তিনি।

দারুণ ফর্মে থাকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ভালোই ব্যাট করছিলেন শ্রীলঙ্কানদের বিপক্ষে। কিন্তু গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে শতক হাঁকানো ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে দেননি বোলাররা। নিজের নামের পাশে ২৫ রান যোগ হতেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান জীবন মেন্ডিস। জীবনের বল উড়িয়ে মার গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে থিসারা পেরেরার তালুবন্দী হন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

ম্যাককালামকে থামাতে পারলেও রব নিকলকে আটকাতে পারেনি লঙ্কান বোলাররা। ধনঞ্জয়ার দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৪০ বলে ৫৮ রান করেন নিকল। তিনটি চার ও চারটি ছয়ের মার ছিলো তার ইনিংসে। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৪ রান করতে পারে কিউইরা।

জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিউই বোলারদের তুলোধুনো করেন লঙ্কানরা। শেষ দিকে দৃশ্যপট ছিলো একেবারে উল্টো। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে লঙ্কানদের রানের গতি কমিয়ে দেয় সফরকারী বোলাররা। তিলকারত্নে দিলশানের ৭৬ ও মাহেলা জয়াবর্ধনের ৪৪ রানের সুবাদে স্বাগতিকদরে গন্তব্যে পৌঁছার পথ পরিষ্কার থাকলেও ইনিংসের শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এক রান নিতে পারেননি লাহিরু থিরিমান্নে। টিম সাউদির বলে উইকেটের প্রান্ত বল করতে গিয়ে রান আউট হন তিনি (৫)। স্কোর সমান হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। খেলতে নেমে টিম সাউদির ছয় বলে এক উইকেটে ১৩ রান করে স্বাগতিকরা। ব্যাট করেন মাহেলা জয়াবর্ধনে, থিরাসা পেরেরা ও তিলকারত্নে দিলশান। জবাবে লাসিথ মালিঙ্গার দুর্দান্ত বোলিং এক উইকেট হারিয়ে ৭ রান করতে পারে নিউজিল্যান্ড।

শ্রীলঙ্কা দল: মাহেলা জয়াবর্ধনে (অধিনায়ক), কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারত্নে দিলশান, লাহিরু থিরিমান্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, জীবন মেন্ডিস, থিসারা পেরেরা, নুয়ান কুলাসেকারা, লাসিথ মালিঙ্গা, অজন্তা মেন্ডিস ও আকিলা পেরেরা।

নিউজিল্যান্ড দল: রস টেলর (অধিনায়ক), মার্টিন গুপটিল, জেমস ফ্রাঙ্কলিন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, রব নিকল, জ্যাকব ওরাম, ড্যানিয়েল ভেট্টরি, কেন উইলিয়ামসন, নাথান ম্যাককালাম, টিম সাউদি ও কাইল মিলস।

অপর খেলায়…

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শীর্ষ আটের খেলায় বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫ রানে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। জনসন চার্লস ও ক্রিস গেইলের ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নেয় ক্যারিবিয়রা। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭৯ রানের জবাবে ইংল্যান্ড সংগ্রহ করে ১৬৪ ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৭৯/৫

ইংল্যান্ড: ১৬৪/৪

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫ রানে জয়ী।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিনা রানেই দুই উইকেটে হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংলিশরা। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে যথাক্রমে কিসওয়েটার ও লুক রাইটকে তুলে নেন পেসার রবি রামপল। দলীয় ৫৫ রানে বেয়ারস্টোর উইকেটের পতন হলে ইংল্যান্ড ইনিংসের হাল ধরেন অ্যালেক্স হালস ও ইয়ন মর্গান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০৭ রান এনে দিয়ে ম্যাচে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

৫১ বলে ৬৮ রান করেন হালস। ৫টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো ছিলো তার ইনিংসটি । অন্যদিকে ৩৬ বলে ৪টি চার ও ৫ ছক্কায় ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন মর্গান।

রবি রামপল দুটি উইকেট পান। এছাড়া ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলস প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট দখল করেন।

এর আগে পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ওপেনার জনসন চার্লস ও ক্রিস গেইল। মাত্র ১১ ওভারেই শতরানের জুটি গড়ে বিদায় নেন ক্রিস গেইল। দলীয় ১০৩ রানে তাকে সাজঘরে ফেরান গ্রায়েম সোয়ান। তবে ক্যারিবিয়দের রানের চাকা থেমে থাকেনি। একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেটের পতন হলেও জনসন চার্লসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ওভারে লড়াকু ইনিংস গড়ে ক্যারিবিয়রা।

৫৬ বলে ১০টি চার ও ৩ ছয়ে ৮৪ রান সংগ্রহ করেন চার্লস। অন্যদিকে গেইলের ৩৫ বলে ৫৮রানের ইনিংসে ছিলো ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা।

স্টুয়ার্ট ব্রড দুটি উইকেট পান। এছাড়া স্টিভেন ফিন, জাদে ডার্নবাচ ও গ্রায়েম সোয়ান প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচ সেরা বিবেচিত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চালর্স।

খেলাধূলা