আত্মসমর্পণের নির্দেশ ডেসটিনির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার জামিন বাতিল

আত্মসমর্পণের নির্দেশ ডেসটিনির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার জামিন বাতিল

ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির শীর্ষ ২২ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করেছেন আদালত।

আসামিদের অবিলম্বে এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক চারটি রিভিশন মামলার শুনানি শেষে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জহুরুল হক রিভিশন মঞ্জুর করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, রিভিশন মঞ্জুর করার ফলে ম্যাজিস্ট্রেট-আদালতের দেওয়া ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার জামিন আইনত বাতিল হয়ে গেছে।

জামিন বাতিল হওয়া অপর আসামিরা হলেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালক মো. গোফরানুল হক,  মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমান, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানি, ফারাহ দীবা, জমসেদ আরা চৌধুরী, নেপাল চন্দ বিশ্বাস, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকরাম হোসেন সুমন, মিসেস শিরিন আক্তার, মো: রফিকুল ইসলাম সরকার, মো: মজিবুর রহমান, মো: সুমন আলী খান, মো: সাইদুল ইসলাম খান (রুবেল), মো: আবুল কালাম আজাদ ও লে. কর্নেল (অব) দিদারুল আলম।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে চারটি মামলার দু’টিতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

ওই দিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন প্রদানের এখতিয়ার নিয়ে। আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট এ মামলায় জামিন দিতে পারেন না। কিন্তু তিনি তা করেছেন।

তিনি বলেন, “দুইটি মামলার একটি ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন এবং অপরটি ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিয়ে। ট্রি প্ল্যানটেশনে লাগানো গাছ বিক্রির নাম করে গাছ না লাগিয়েই ডেসটিনি জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই টাকা পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কর্মকর্তা রফিকুল আমীন, লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ, মোহাম্মাদ হোসেন, পরিচালক সাঈদ-উর-রহমান ও গোফরানুল হকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। তারা দেশের দরিদ্র মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকতে পারে না।“

“হাজার হাজার মানুষ ডেসটিনির দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। সমগ্র দেশবাসী এ মামলার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও তারা যদি জামিন পেয়ে যান তবে সাধারণ মামলার আসামিদের তো এমনিতেই ছেড়ে দিতে হবে। সাধারণ চুরির মামলায় যেখানে ৬ মাসের আগে জামিন হয় না, সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় আসামিরা জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়ালে সরকার ও বিচার বিভাগ সম্পর্কে মানুষ প্রশ্ন তুলবে।“

ডেসটিনির পক্ষে মামলায় শুনানি করেন, এহসানুল হক সমাজী, কাজী নজীব উল্ল্যাহ হীরু, ব্যারিস্টার আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট আবু সাইদ সাগর।

শুনানিতে তারা বলেন, মানি লন্ডারিং আইনের কোথাও বলা নেই যে, এ মামলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জামিন দিতে পারবেন না। এ আইনে জজ বলতে স্পেশাল জজ বোঝালেও তা হবে মামলার চার্জশিট দাখিলের পর। মামলার তদন্ত চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতই জামিন দেবার কিংবা বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন। এ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির তারা আদালতে উপস্থাপন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক দুদকের পক্ষে রিভিশন মামলা চারটি মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ডেসটিনির শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার জামিন বাতিল চেয়ে করা দুদকের করা রিভিশন মামলা মঞ্জুর করে ডেসটিনির শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করেছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম গত ৩১ জুলাই মামলা দুটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি অ্যাকাউন্টে ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আছে। বাকি তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা তারা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।

অর্থ বাণিজ্য