চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরীর উদ্বোধন

চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরীর উদ্বোধন

চীনের ইতিহাসের প্রথম বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক কার্যক্রমে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রণতরীটির নামকরণ করা হয় চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের নামে। ওই প্রদেশে অবস্থিত একটি ডক ইয়ার্ডেই রণতরীটিকে সামরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য উপযুক্ত করে সজ্জিত করা হয় ।

সোভিয়েত আমলের শেষ দিকে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পরিত্যক্ত বিমানবাহী এই রণতরীটিকে ইউক্রেন থেকে ক্রয় করে চীন। ৮০’র দশকের প্রথমভাগে নিজেদের ব্যবহারের জন্য এর নির্মাণকাজ শুরু করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়।

ইউক্রেনের একটি ডকইয়ার্ডে রাখা জাহাজটিকে পরবর্তী সময়ে একটি চীনা কোম্পানি স্ক্র্যাপ বা বাতিল লোহা হিসেবে কিনে নেয়। ম্যাকাওয়ে একটি ভাসমান ক্যাসিনো হিসেবে ব্যবহারের কথা বলে কেনা হয় এটি। পরবর্তী সময়ে এই কোম্পানির সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির সংযোগ প্রমাণিত হয়।  কেনার পর ২০০১ সালে চীনের মূল ভূণ্ডে নিয়ে আসা হয় জাহাজের কাঠামোটিকে।

এর দীর্ঘদিন পর ২০১১ সালে এটিকে সামরিক উদ্দেশ্যে রুপান্তরের কথা ঘোষণা করে চীনা সামরিক বাহিনী। চীনের প্রথম  বিমানবাহী রণপোত হিসেবে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে জাহাজটির অসমাপ্ত কাজ শেষ হয় চীনের মাটিতেই।

অবশেষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটিকে চীনা নৌবাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। জাহাজটিকে আপাতত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে এখনও কোনো জঙ্গি বিমান সংযুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

লিয়াওনিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের সময় শীর্ষ চীনা নেতারা দালিয়ান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদসংস্থা সিনহুয়া।

বিমানবাহী রণতরীটিকে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভূক্তি সামরিক শক্তি হিসেবে চীনের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার একটি  নির্দেশনা হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক