উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে যৌথ পাওয়ার প্লান্ট : ড. গওহর রিজভী

উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে যৌথ পাওয়ার প্লান্ট : ড. গওহর রিজভী

‘বিদ্যুতই সবচেয়ে বড় সমস্যা’ স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, “এ সমস্যা সমাধানে উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে (ভারত-নেপাল-ভুটান) যৌথ পাওয়ার প্লান্ট ইলেকট্রিসিটির পরিকল্পনা চলছে। সমস্যা সমাধান হলে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়বে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

‘সম্পীতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে আঞ্চলিক ঐক্য’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনের সভাপতি এম এ মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় এ সেমিনারে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. গওহর রিজভী বলেন, যৌথ পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের লক্ষে ভারত-ভূটান-নেপালের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আফগানিস্তানসহ অন্য দেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৈষম্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে ড. রিজভী বলেন, ‘শূন্য ট্যারিফ’ সুবিধার পর থেকে ৩শ’মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হচ্ছে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনার চেষ্টা চলছে।

ড. গওহর রিজভী বলেন, “ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর থেকে তিনবিঘা করিডোরসহ বিভিন্ন সমস্যা স্থানীয়দের অসুবিধা না করেই মেটানো সম্ভব হয়েছে।”

ঝগড়া-বিবাদ করে দ্বিপাক্ষিক বিরোধ মেটানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে গওহর রিজভী বলেন, “তিস্তা চুক্তি হয়নি; তবে শিগগিরই হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রাজি করাতে চেষ্টা করছে। তবে এটা বলতে পারি, যে শেয়ারে পানি আসার কথা ছিলো তা আসছে।“

পারষ্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান করতে হবে বলেও সেমিনারে জানান তিনি ।

ড. গওহর রিজভী আরও বলেন,  “আমাদের সব চেয়ে বড় সম্পদ ভৌগলিক অবস্থান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যমনি। কানেকটিভিটি উন্নয়ন করতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাব-এ পরিণত হবে। এজন্য মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে সার্ক এর জন্ম উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারলে ভাল ফল আসবে।

অনুষ্ঠানে আলোচকের বক্তব্যে বিশ্বশান্তির পরিষদের সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু বলেন, উপ-মহাদেশের নিজেদের মধ্যে ঐক্য থাকলে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। এজন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি করে সম্প্রীতির ঐক্য গড়তে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফনিন্দ্র সরকার।

বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্র পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যপক শহীদুল্লাহ শিকদার, কৃষক লীগের নেতা রোকন উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থ বাণিজ্য