‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন ইউনূস’

‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন ইউনূস’

আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবহার করে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এই অভিযোগ করেছেন দেশের ৫১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

শনিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ইউনূস ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে বৃহৎশক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে দেশের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন।

বিদেশি শক্তিগুলোর এই চাপ প্রয়োগকে অবাঞ্ছিত উল্লেখ করে এই বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, “এই চাপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল, যা স্বাধীন দেশের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।“

গণমাধ্যমে দেওয়া শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

বিবৃতিতে তারা বলেছেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমান সরকার ও ড. মুহাম্মদ ইউন‍ূসের মধ্যে একটি মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী বয়সসীমা অতিক্রম করায় ড. ইউনূসকে গ্রামীণব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তিনি মামলা দায়ের করেন এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সিদ্ধান্তকে আইনানুগ বলে রায় দেন। এতে বিষয়টির একটি আইনি মীমাংসা সম্পন্ন হয়। অতি সম্প্রতি সরকার গ্রামীণব্যাংকের অধ্যাদেশে তৃতীয়বারের মতো যে সংশোধনী এনেছে তা নিয়ে যে কেউ ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন।“

“কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, ড. ইউনুস ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে বৃহৎশক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে দেশের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করছেন।

আমরা জানি, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময় যখন দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, সে সময় ড. ইউনূস একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার বহাল থাকা অবস্থায় তিনি নতুন সরকার বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।“

অতীতের মতো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্যে বিবৃতিতে ৫১জন বিশিষ্ট নাগরিক আহ্বান জানান।

বিবৃতিদাতারা হচ্ছেন- অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শামসুজ্জামান খান, কামাল লোহানী, বিচারপতি (অব.) মেজবাহ উদ্দন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক আবদুল খালেক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কবি বেলাল চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, সেলিনা হোসেন, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা, ড. হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সুরকার সুজেয় শ্যাম, সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অভিনেতা-পরিচালক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।

 

বাংলাদেশ